সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সেতুর উপর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যানজটের কারণে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হ‌ওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে তবে যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

 

 

শান্তিরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

 

সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।

 

 

 

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

 

 

 

চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

 

 

 

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

 

 

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।

 

 

 

পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাধার মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি।

 

এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি সদস্যদের এমন অবস্থানে প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল।

 

 

 

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।

 

 

প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, বিভাগসেরা জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান

 

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
এ অর্জনের খবরে নীলফামারী জেলায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্মান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।
শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তার নেতৃত্বে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে নীলফামারীর শিক্ষা খাত ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই স্বীকৃতি নীলফামারীর জন্য একটি গৌরবময় অর্জন। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এস এম সাদ্দামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ।

 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ফেসবুক পোস্টে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে।

 

এসব ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা এস এম সাদ্দামকে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, আমিও ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেখেছি। তবে ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কোন মেসেজ পাইনি।

বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরাইদহ (উত্তরপাড়া) গ্রামে সাপের কামড়ে মো. নুর-মোহাম্মদ (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পাশের বাড়ির একটি ঘরের খামারে খেলতে গিয়ে সেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ শিশুটির ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার এপেক্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর চাচা আব্দুল মালেক বলেন, “ঘরের খামারে হাত দেওয়ার সময় একটি সাপ নুর-মোহাম্মদের ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। পরে আমরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এপেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. ফ. ম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সাপে কামড়ানোর পর শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।”
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, “সাপের কামড়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

কৃষিখাতে প্রতারণা রোধে সৈয়দপুরে মোবাইল কোর্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাতের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা-র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বালু ও বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করে প্যাকেটজাত করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় ভেজাল কীটনাশক তৈরির কাজে ব্যবহৃত ও জব্দকৃত সামগ্রী প্রসিকিউশন কর্মকর্তার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডই সহ্য করা হবে না। ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ফসলের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের হয়রানি, প্রতারণা ও ফসল উৎপাদনে সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল দেখে সরে দাঁড়ালো পুলিশ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিশাল একটি মিছিল দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থক বাঁধের হাট বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীদের বিশাল জনস্রোতের মুখে তারা টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ও তীব্রতা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

 

এই বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়বো না।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীর মুখে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মিছিলের খবর আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ওসির দাবি, তারা শুরুতে মিছিলটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়তে বাধ্য হন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নব দম্পতিকে বিরল প্রজাতির গাছের চারা উপহার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের অনুষ্ঠানে নব দম্পতি কে বিরল ও  মহাবিপন্ন চাপালিশ, বৈলাম,বুদ্ধ নারিকেল  সহ বকুল, নিম ও পলাশ গাছের চারা উপহার  হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
 শুক্রবার ( ৫ জুন) দুপুরে   পরিবেশ  ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশের পক্ষ থেকে এ উপহার তুলে দেয়া হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন  সাংবাদিক এম,আতিকুল ইসলাম বুলবুল,  মো: সাজেদুল আলম,  লেখক-গবেষক উজ্জল মাহাতো, মো: লুৎফর রহমান,  এম,এ, মাজিদ, শামীউল হক শামীম, মৃণাল সরকার মিলু,  মো: আশরাফুল ইসলাম আসিফ ও সনাতন দাশ ও মুশফিকুর রহিম ফাহিম।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের  তাড়াশ উপজেলা পারিল গ্রামের বাসিন্দা  মো: আব্দুল লতিফের ছেলে ও সাংবাদিক হাদিউল হৃদয়ের সাথে পাশ্ববর্তী দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা  মো: জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌসের  বিয়ে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী এ উপহার নিয়ে হাজির হোন  পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ।
মুহূর্তেই বিয়ের অনুষ্ঠানে  এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। উৎসুক বরযাত্রী সহ বিয়ে বাড়িতে আগত  লোকজন  উপহার  দেখতে ভিড় জমান।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ বলেন,  আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস।   বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য অনুসঙ্গ।  পাশাপাশি বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সবাই কে সচেতন করতে গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
লেখক – গবেষক উজ্জল মাহাতো বলেন, এই ব্যতিক্রমী উপহার দেখে আমরা অভিভূত।  পরিবেশ সচেতনতায়  আমাদের প্রত্যকেই এমন ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, বিয়ের অনুষ্ঠানের মাহবুব ইসলাম পলাশ তাড়াশ উপজেলার ক্ষিরপোতা আনন্দ বৌদ্ধ বিহার, মাধাইনগর মিশনারী চার্চ, তাড়াশ উপজেলা মডেল মসজিদ ও শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্বরে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করেন।

হিলিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুরে শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দিনাজপুরের হিলিতে এক বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে হাকিমপুর উপজেলা আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৫টায় হিলি স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট গেট থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত ও পতাকা হাতে সমর্থকরা এই শোভাযাত্রা বের করেন। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হিলি রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন সাবেক হাকিমপুর পৌর মেয়র সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ এলে হিলির ফুটবলপ্রেমীরা মেতে ওঠেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সমর্থনে এ অঞ্চলে সবসময়ই ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও আর্জেন্টিনা সেরা খেলা উপহার দেবে এবং লিওনেল মেসির হাত ধরে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলবে। র‍্যালিতে ঢাক-ঢোলের শব্দে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ভূল্লী উপজেলার  ৫ নং শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বাং রোড সুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ মানিক হোসেন (৪৩), মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি (৪৫), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৪৭), মোঃ মনোয়ার হোসেন (৪০) এবং মোঃ মোখলেছ (৪৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে রয়েছেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোঃ জুবায়েত জাহিদ (৪৪), একই শাখার পিয়ন মোঃ আজাহার আলী (৫৪) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা (৫৫)। তারা সবাই নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি ডলার, সাতটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়াও উদ্ধারকৃত আলামত ও নথিপত্র যাচাই করে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কাফনের কাপড় পরে ৫৮ সেকেন্ডের মিছিল যুবলীগের

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। নেতাকর্মীদের হাতে থাকা ব্যানারে— হামে শিশুমৃত্যু, শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত স্লোগান লেখা ছিল। মিছিলটি বিদ্যুৎ ভবনের সামনে এসে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দেন।

আগ্রাবাদের মিছিলের বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমীনুর রশিদ জানান, আগ্রাবাদ এলাকার মিছিলের ভিডিও ফুটেজটি দেখে মিছিলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের পর মেয়েরও মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা ৪

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেলেন মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তামান্না। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ জনে।

 

 

নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার মৃত বাছের সরকারের ছেলে মো. মোতালেব সরকার (৪০), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) ও তাদের মেয়ে কলেজ ছাত্রী তামান্না খাতুন (১৬) এবং জামতৈল গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যানের চালক মো. নুরু (৪৫)।

 

এর আগে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেঘুল্লা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে এনায়েতপুরগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহণের দ্রুতগামী একটি বাস বিকল হওয়া ভ্যানটিকে চাপা দিলে এর চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন যাত্রীকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকালেই মারা যান বাবা মোতালেব সরকার ও মা ফজিলা খাতুন।

 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়ে তামান্নাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলের দিকে মারা যান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

“শাকিব খানের ঘরে জন্ম নিল কন্যাসন্তান”।

দুই পুত্রসন্তানের পর এবার কন্যাসন্তানের বাবা হলেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ১১ মে তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাসন্তান। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে শার্লিন খান।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সুখবরটি প্রকাশ করেন বুবলী।

 

 

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

পোস্টের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন বুবলী। যেখানে নবজাতকের নাম শার্লিন খান উল্লেখ করা হয়। সেখানে শাকিব খান ও বুবলীকে ‘এলেটেড প্যারেন্টস’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছিল। তবে সে সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও গণমাধ্যম থেকেও অনেকটা দূরে ছিলেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীর। পরে ২০২২ সালে বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। অপু বিশ্বাসের ঘরে তার আব্রাহাম খান জয় নামের আরেক ছেলে রয়েছে।

 

দুই পক্ষের বিরোধে সংঘর্ষ, নিহত একজন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গন্ডা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত জামাল মিয়া (৪৫) ওই গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জামাল মিয়ার সন্তান ও প্রতিবেশী সুজন মিয়ার সন্তানদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জামাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এদিকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সুজন মিয়ার স্ত্রী অজু আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

 

 

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, শিশুদের ঝগড়া থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

তরুণকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে গণপিটুনি

গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক তরুণকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ সংলগ্ন এলাকার একটি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম (২৬) প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। ‎ ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামিয়া কারমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার অফিস কক্ষে রবিউল ইসলাম এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতে নাতে আটক করেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থনীয় জনগণ তাকে মাকে চারদিকে থেকে পুলিশের সামনেই মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে গণপিটুনি শুরু করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ জনগণের বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ ভ্যানে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে সাঘাটা থানায় নিয়ে যান। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রটির সঙ্গে জোর করে ‘খারাপ’ কাজ করতে শুরু করলে ছাত্রটি চিৎকার করে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

“পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের”।

হবিগঞ্জের বাহুবলে নির্মাণাধীন বসতঘরের পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

মৃতরা হলেন— উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আইনউদ্দিন (৫০) ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেদের নির্মাণাধীন বসতঘরের পেছনে পানির লাইন মেরামতের জন্য গর্ত খনন করছিলেন বাবা-ছেলে। এ সময় পানি তোলারর জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে সেটি পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন দুজনই।

পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকতার মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

‘রকস্টার’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ‘সোলজার’ নিয়ে হাজির শাকিব

রকস্টার’-এর সাফল্যের জোয়ারে ভাসতে ভাসতেই ভক্তদের ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিলেন শাকিব খান। সান মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায় খুব শিগগিরই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত এবং হাই-ভোল্টেজ সিনেমা ‘সোলজার’। সিনেমা হলের এই ব্লকবাস্টার উন্মাদনার মাঝে নতুন এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে শাকিবিয়ানদের বাঁধভাঙা উল্লাস।

 

 

রকস্টার’-এর বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই নতুন প্রজেক্ট ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শাকিব খান। ‘সোলজার’ মূলত ‘রকস্টার’-এর আগের ছবি। এর সিংহভাগ শুটিং আগেই শেষ হলেও এতদিন তা আটকে ছিল। তবে সুখবর হলো, ছবিটির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে মেগাস্টার জানান, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন এই প্রজেক্টের আপডেট দিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘এই বছরই আরেকটি সিনেমা রিলিজ হচ্ছে, সেটিও সান মোশন পিকচার্সের ‘সোলজার’।

কিছুদিনের মধ্যে আমরা এর ক্যামেরা ক্লোজ করব। আবার নতুন করে সোলজার হচ্ছি। সিনেমার বাকি শুটিং দেশের বাইরে সম্পন্ন হবে। খুব শিগগিরই, এই বছরেই ‘সোলজার’ নামের একটি চমৎকার ও সুন্দর ছবি মানুষ দেখতে পাবে।’ কথায় কথায় নিজের রূপালি জগতের রঙিন ও দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এই নায়ক। ক্যারিয়ারের শুরুটা মাত্র তিন মাসের জন্য হলেও, কীভাবে যে প্রায় তিন দশক কেটে গেল, তা ভাবিয়ে তোলে এই তারকাকে।

তার কথায়, ‘আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি যখন আমার ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট ছিলাম। মাত্র তিন মাসের জন্য (ইন্ডাস্ট্রিতে) এসেছিলাম। কিন্তু কাজের মধ্যে দিয়ে সময়গুলো এমনভাবে পার হয়ে গেছে যে, ২৭ বছর কখন পার হলো টেরো পাইনি। জার্নিটা আসলে অনেক ভালো ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তবে অনেক চড়াই-উতরাই যে শুধু আমাদের সিনেমার মানুষ পার করেছে তা না; বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন ক্রাইসিস থাকে, বিভিন্ন কারণে আমাদের পুরো দেশ পিছিয়ে যায়। আবার তার মধ্য দিয়েই সিনেমাকে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে, যার যার সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করি এগিয়ে নিতে।’

 

 

শাকিব সবশেষে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব আমাদের সিনেমা যেন সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়। যে লক্ষ্যে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি, আপনারাও সবাই কাজ করে যাচ্ছেন; এত পজিটিভলি কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

সমস্ত নেগেটিভিটি যত আছে, সব নেগেটিভিটিকে পাশ কাটিয়ে আমরা সব পজিটিভ মানুষরা সামনে এগিয়ে যাব। ভালো ভালো কাজ করব। ইনশাল্লাহ, আমাদের দেশের জন্য অনেক ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসব।’

 

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক: ভাসানী জনশক্তি পার্টি

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। শুক্রবার (৫ মে) দেওয়া বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেছেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে।’

 

 

তারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দেবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে সংসার পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।’

 

 

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারের সব পণ্য ও সেবার মূল্যের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।’

তারা বলেন, ‘জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে এসে জনবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

এসএসসি পাস হলেই আবেদন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৯০ পদ খালি

এসএসসি পাসেই কাজের সুযোগ দিচ্ছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠাটির অধীনে বিভিন্ন অফিসগুলোয় ৭টি পদে ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে ৩ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি—

 

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন : অস্থায়ী

 

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

 

কর্মস্থল : দিনাজপুর

 

বয়স : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদন শুরু : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

 

আবেদনের শেষ তারিখ : ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত

 

আবেদন পদ্ধতি : অনলাইনে

 

আবেদনের নিয়ম : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদন ফি : টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-৬নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৭নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

রায়গঞ্জে চাতালে বিষাক্ত ঝুট পোড়ানো: ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা এলাকায় কয়েকটি চাউল কলে নিষিদ্ধ ঝুট (বস্তার উচ্ছিষ্টাংশ) পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সৃষ্ট বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ সরকার গত ৪ জুন সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘুড়কা এলাকার শিকদার ও শাপলা চাউল কলে ঝুট পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করা হচ্ছে। তার বাড়ি চাতালের নিকটবর্তী হওয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই সরাসরি বসতঘরে প্রবেশ করছে। ফলে ঘরের আসবাবপত্র, খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র কালো কালিতে ঢেকে যাচ্ছে।

 

লতিফ সরকার অভিযোগে আরও বলেন, “আমার বৃদ্ধ মা ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বারবার ঝুট পোড়ানো বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি। বরং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, চাতালগুলোতে ঝুট পোড়ানোর সময় সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

 

এ বিষয়ে এক চাতাল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানো যে নিষিদ্ধ, তা আমরা জানি। তবে আশপাশের অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তাই আমরাও ব্যবহার করছি।”

 

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ ফ ম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘলগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থামথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার ও সরদার গং এবং প্রামানিক গং এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে প্রামানিক গোষ্ঠীর নাসির মাস্টারকে গ্রামে ঢুকতে দিত না প্রতিপক্ষরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাসির মাস্টার বাড়ি গেলে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাসিরের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলা চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়। এ ঘটনাশ ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রামাণিক গোষ্ঠীর গৃহবধূ আমিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিরোধের জেরে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন তাদের মাঠের ধান কাটতে ও শুকিয়ে ঘরে তুলতে দিচ্ছে না। এমন কি তাদের পরিবারের পুরুষদেরকেও গ্রামে আসতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষরা ।

 

 

সরদার গোষ্ঠীর গৃহবধূ বুলু জানান, তাদের লোকজনকে মারপিট করা হয়েছে এবং নাসির মাস্টার গ্রামের অনেক ক্ষতি করেছে। তাই তাকে গ্রামে জায়গা দেওয়া হবে না।

 

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি মোকাবেলায অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিরাজগঞ্জে আ. লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতা কারাগারে

সিরাজগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওবায়দুল হক রুমি তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

এরা হলেন, জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলার বাঐতারা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগবাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হরিনা গোপাল গ্রামের মৃত জালাল শেখের ছেলে শুকুর মাহমুদ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ধলডোব গ্রামের মৃত ভোলা শেখের ছেলে ময়নুল হক এবং পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য দত্তবাড়ি মহল্লার মো. রফিকের ছেলে মো. রাব্বি।

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) জুয়েল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৪ আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে একজনকে হত্যা মামলায় বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

 

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসায় আগুন দিয়ে দুই ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।

 

যমুনা সেতু পশ্চিমে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এখনো যানজট-ধীরগতি

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ভোররাতে শুরু হওয়া যানজট এখনো রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে চলছে গাড়ী। সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঢাকামুখী লেনে যানজট থাকলেও উত্তরবঙ্গগামী লেনে স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

 

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মুলিবাড়ি কড্ডার মোড়, ঝাঐল ওভারব্রীজ ও কোনবাড়ী পার হয়ে নলকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে এই যানজট। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে রয়েছে যানবাহন।

 

 

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তার উপরে যানজট ভোগান্তিতে ফেলেছে কর্মস্থলে ফেরা অসংখ্য যাত্রী সাধারণকে।

 

 

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক প্রণয় কুমার জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানজট রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে গাড়ী চলছে। সেতুর টোলপ্লাজায় গাড়ী টানতে পারছে না। তবে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসকর্মীরা কর্মস্থলে ফিরছেন। যার ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। ভোররাতে যমুনা সেতুর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিকল হয়ে পুরো লেন ব্লক হয়ে যায়। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী রিজার্ভ নেওয়া লোকাল লক্কর-ঝক্কর একাধিক গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। এসব কারণে উভয় লেনেই যানজটের সূত্রপাত হয়। রেকার দিয়ে বিকল হওয়া পরিবহণ অপসারণ করার ফাঁকেই যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়।

 

 

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা ছিল। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি।

 

আসুন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবাই ৫টি করে গাছ লাগাই: এমপি কামরুজ্জামান রতন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি।
“নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, নদীমাতৃক বাংলাদেশ” স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের মোহাম্মদ আলী প্লাজা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি সাহাদাত পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন, এম. ইসহাক আলী, তপন চৌধুরী, হাসান জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন সরকার, আজিজুল হক পার্থ, আক্তারুজ্জামান শিকদার, আলমগীর হোসেন মিয়া, জাহাঙ্গীর শিকদারসহ স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্তত পাঁচটি করে গাছ রোপণ করি—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি গজারিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

যাত্রী সেজে ছিনতাই অটোরিকশা রহস্য উদঘাটন, ৪ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত একটি ছিনতাই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৩ জুন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা ব্রিজ এলাকায় পাঙ্গাসী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল শেখ (৩৫)-এর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা প্রথমে অটোরিকশাটি ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। পরে চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাসেল শেখ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান -এর নির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাঙ্গাসী গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে মো. আবু রায়হান, একই গ্রামের আ. রশিদ ফকিরের ছেলে রিপন ফকির, নওদা শালুয়া গ্রামের মো. বারেকের ছেলে মো. নাজমুল শেখ এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভাঙ্গাবাড়ী এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে আলী শেখ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

 

কুড়িগ্রামে ভুরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ আগুনে দোকান পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি

ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে কোটি টাকার ক্ষতি মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি দোকান থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন রূপ নেয় তীব্র ভয়াবহতার। ক্রমাগতভাবে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের একাধিক দোকানের মধ্যে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় দোকান ও দোকানে থাকা সমস্ত সরঞ্জাম।
আগুনের তীব্রতা ক্রমন্বয়ে বাড়তে থাকলে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও রক্ষা হয়নি দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। দোকানের মালিক এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দোকানগুলোতে মালামাল, টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ইত্যাদি সব মিলিয়ে কোটি টাকার মতো সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ব্যবসায়ীদের।
অনেকের মতে, অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা দোকান গুলো দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কোন কোন ব্যবসায়ীর আবার ঋণ রয়েছে যা পরিশোধের একমাত্র উৎস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো। আগুনে সব নিঃশেষ হওয়ার কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
তবে আগুনের সুত্রপাত বা আগুনের প্রকৃত কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস এবং প্রশাসন এ বিষয় তদন্ত করছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে সহায়তার দাবি এবং পুনর্বাসনের দাবি করেছেন।

 

ইসলামপুরে আমগাছ থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

‎জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় হযরত আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের লাউদত্ত গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।


‎স্থানীয়  সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির পাশের একটি আমগাছে হযরত আলীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাঁর গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে ইসলামপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।



‎ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”


‎​ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়।


‎এ ঘটনায় লাউদত্ত গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, নিহত হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো, তা এখনো সবার কাছে অজানা।

বিএসএফ’র ১৭জনকে পুশইনের চেষ্টা, শূন্য রেখায় আটকে দিল বিজিবি

নওগাঁর সাপাহারে সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)।
তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা। বর্তমানে ওই ১৭জনকে শূন্য রেখায় আটকে রেখে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বিজিবি।
এতে ওই এলাকায় উৎসুক জনতার ভীড় বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে পুশইন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। সংবাদ পাওয়ার পর হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ১৭জনকে ভারতীয় শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় সনাক্ত করে। পুশইনকৃত ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা হাঁপানিয়া সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে(শূন্য) রেখায় অবস্থান করছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরে ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে ভারতীয় ভূখন্ডে পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

কামারখন্দে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গাঁজা সেবন ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রায়দৌলতপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন।
অভিযানে উপজেলার রায়দৌলতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আল আমিন ভুইয়া (২৭), পিতা- আদেল উদ্দিন ভুইয়াকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
কামারখন্দ থানা পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

বিজেপিকে বিদায় জানালেন তামিলনাড়ুর ‘সিংহাম’ আন্নামালাই

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতির পরিচিত মুখ ও সিংহাম খ্যাত কে আন্নামালাই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। দল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল তিনি কি আগে বিজেপির সদস্য, নাকি একজন তামিল?

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) এক বক্তব্যে আন্নামালাই বলেন, আমি ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর দলকে জানিয়েছিলাম যে পদত্যাগ করতে চাই। তখন আমাকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।

 

 

এরই মধ্যে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এক বিবৃতিতে দল জানিয়েছে, তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

দল ছাড়ার পর আন্নামালাই বলেন, ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে দলের সঙ্গে থাকাকালেও কখনো তামিলনাড়ুর স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয়ের বিষয়ে আপস করেননি।

তিনি দাবি করেন, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে দলের কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তার অসন্তোষ ছিল।

 

তরুণদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্নামালাই বলেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সময় এসেছে। এ জন্য নতুনদের একটি নিবন্ধন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

আন্নামালাই বলেন, আজ থেকে আমরা সাধারণ মানুষের রাজনীতির নতুন প্রজন্মের ভিত্তি গড়ে তুলছি।

 

 

একই সঙ্গে তামিলনাড়ুতে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

তবে আন্নামালাইয়ের পদত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রন। তিনি বলেন, দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।

 

 

পদত্যাগের আগে মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্নামালাই। দলীয় নেতৃত্ব তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

 

সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা আন্নামালাই তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি এবং রাজ্যের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ ছিলেন। তাকে তামিলনাড়ুর সিংহাম বলে অভিহিত করা হতো। তবে তিনি এখন স্বাধীন রাজনৈতিক পথ অনুসরণের বিষয়ে আগ্রহী।

 

কেন নেতৃত্ব হারালেন পন্ত? ব্যাখ্যা দিলেন কোচ গম্ভীর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে ভারতের টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কের পদ হারিয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্ত। তবে এ নিয়ে কোনো বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, ভারতের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, নেতৃত্বের পদ কেবল অতিরিক্ত বিষয়।

 

 

আজ নিউ চন্ডীগড়ে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ‘দায়িত্ব বলতে একটাই, ভারতের হয়ে খেলা। অধিনায়কত্ব বা সহ-অধিনায়কত্ব এসব পরের বিষয়। আমরা চাই পন্ত নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলুক।’

 

 

পন্তের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করতে চান না ভারত কোচ। তবে ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে খেলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

গম্ভীর বলেন, ‘ওকে আমরা কখনোই বলব না যে তার স্বাভাবিক খেলা বদলে ফেলতে হবে। তবে পরিস্থিতি বুঝে খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য একটাই, রান করা এবং ম্যাচে অবদান রাখা।’

এর আগে সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে জানান, নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও দলের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা রাখতে পারেন পন্ত। গম্ভীর ও পান্তের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

ডেসকাটে বলেন, ‘পন্ত বুঝতে পারে যে নেতৃত্ব দিতে হলে সবসময় কোনো পদবির প্রয়োজন হয় না। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবেও সে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

 

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পান্তের পারফরম্যান্স প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪০৮ রানের বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়া আইপিএল ২০২৬-এও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তার নেতৃত্বে লখনউ সুপার জায়ান্টস পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে শেষ করে, পরে অধিনায়কত্বও ছাড়েন পান্ত।

 

 

এদিকে তাকে ওয়ানডে দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে ব্যাট হাতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভারতের এই তারকা ক্রিকেটার।

 

বেলকুচিতে সাংবাদিকদের সাথে বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি প্রার্থী লাবলুর মতবিনিময়

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সাংবাদিকদের সাথে কামারপাড়া চৌমহনী বাজার বণিক সমবায় সমিতির কার্যকারী পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান লাবলু মতবিনিময় করেছেন।

 

 

শুক্রবার সকালে উপজেলার কামার পাড়া চৌমহনী বাজার বণিক সমবায় সমিতির সকল ব্যবসায়ী ও সদস্যবৃন্দর আয়োজনে এ মতবিনিময় হয়।

 

 

এ সময় বাজারের সকল ব্যবসায়ী ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

মতবিনিময় সভায় কামারপাড়া চৌমহনী বাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান লাবলু বলেন, আগামী ১৩ই জুন শনিবার বেলকুচি উপজেলার কামারপাড়া চৌমহনী বাজার বনিক সমবায় সমিতির কার্যকরী পরিষদের ত্রি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি কামারপাড়া ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠের দাতা সদস্য। আমি একজন সুতা ব্যবসায়ী আমার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সরকার ট্রেডার্স যাহা কামারপাড়া চৌমহনী বাজারে অবস্থিত। এছাড়াও আমি একজন দলিল লেখক এবং পর পর তিন বার বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি বেলকুচি শাখায় নির্বাচিত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি এবং বর্তমানে সভাপতি হিসাবে দায়িত্বরত আছি। আমি বণিক সমিতির তালিকা ভূক্ত ভোটার ও নিয়মিত সদস্য। আমি কামারপাড়া চৌমহনী বাজার ও বণিক সমিতিতে প্রতিষ্ঠা লগ্নে সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলাম এবং প্রায় ১০ বছর পূর্বে ২০০৪ সাল হইতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত কামারপাড়া চৌমহনী বাজারের ইজারাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বাৎসরিক ইজারার সমস্ত টাকা পৌরসভার পরিশোধ করে বাকি টাকা কামারপাড়া বাজার মসজিদের কমিটির তহবিলে জমা প্রদান করি-যা মসজিদের উন্নয়ন খাতে ব্যায় হয়।আমি নির্বাচনে সভাপতি পদের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছি এবং আমার প্রতীক চেয়ার। বাজারের সকল ভোটার গণ – আমাকে যদি আপনারা আমার প্রতিক চেয়ার মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন তাহলে আমি সর্বপ্রথম বাজারে শান্তি এবং শৃঙ্খলার মান বজায় রেখে বাজারের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান সিরাজগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম মহাদয় বেলকুচি মানুষকে নিয়ে উনার ভবিষ্যত চিন্তা চেতনা অনেক। সংসদ সদস্যের সহিত আলোচনা ও তাহার সম্মতিক্রমে বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যথা-যথ চেষ্টার মাধ্যমে সকলের সহযোগীতায় কাজ করবো। যেহেতু এই বাজারটি পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধীন এবং পৌরসভা কর্তৃক ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয় সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশাসক / মেয়র মহোদয়ের নিকট বাজারের উন্নয়নের ক্ষেত্রে উনার সুদৃষ্টি ও উন্নয়নের সহযোগীতার ব্যপারে সকলে মিলে আবেদন করবো। আমি বাজারের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হলে বাজারের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বাজার সি.সি ক্যামেরার মাধমে নিয়ন্ত্রন করবো।বাজারের যাতে কোন প্রকার দূর্নীতি – চাঁদাবাজী এবং নেশা জাতীয় কোন দ্রব্য বিক্রি না হয় সেই ক্ষেত্রে আমার পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য সহ বাজারের আওতাধীন সম্মানিত ব্যাক্তি বর্গের সমন্বয়ে দূরী করনের জন্য কঠোর ভূমিকা রাখব এবং আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক সহযোগীতা নেব।

 

 

সর্বোপরি আপনাদের সকলের দোয়া সহযোগীতা এবং আপনাদের মুল্যবান ভোটের মাধ্যমে আমাকে আমার প্রতিক চেয়ার মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানাই।

 

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাব-লেট সিদ্ধান্তে আলোচনায় রয়্যাল লজের কটেজ

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়্যাল লজের কটেজ ভাড়া দেওয়া নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অডিট অফিস (এনএও)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়্যাল লজের আওতাধীন কিছু কটেজ অন্যদের কাছে সাব-লেট দিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।

 

 

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানান, প্রতিবেদনের জন্য রাজপ্রাসাদ কৃতজ্ঞ। এটি রয়্যাল হাউসহোল্ডের স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিবেদনের তথ্য রাজকীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদ্যমান কিছু প্রশ্নের ব্যাখ্যা, সংশোধন ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে সহায়তা করবে।

 

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রয়্যাল হাউসহোল্ড পরিচালিত বিভিন্ন সম্পত্তির ক্ষেত্রে অবস্থান, ভাড়াটিয়া ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অন্যদিকে, ক্রাউন এস্টেটের এক মুখপাত্র বলেন, এনএওর পর্যালোচনা নিশ্চিত করেছে যে রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা লিজ চুক্তিগুলো স্বাধীন পেশাদার পরামর্শ এবং বাজারমূল্যের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন ব্যারোনেস মার্গারেট হজ বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অ্যান্ড্রু কত অর্থ উপার্জন করেছিলেন তা এনএও নির্ধারণ করতে না পারা ‘বিস্ময়কর’।

 

এছাড়া প্রিন্সেস বিট্রিস, প্রিন্সেস ইউজেনি এবং প্রিন্সেস মাইকেল অব কেন্টের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

ব্যারোনেস হজ প্রশ্ন তুলে বলেন, যেসব রাজপরিবারের সদস্য সরকারি দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের কি করদাতাদের অর্থ থেকে ভর্তুকি দেওয়া সমীচীন?

 

 

তিনি আরও বলেন, ক্রাউন এস্টেটের সম্পদ মূলত করদাতাদের সম্পদ। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই এর ব্যবস্থাপনায় সর্বদা করদাতাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইডসে ৭ মৃত্যু, আক্রান্তের বেশিরভাগ সমকামী

 

এইডসে আক্রান্ত হয়ে গত ৫ মাসে (চলতি বছর) কুমিল্লায় সাতজন মারা গেছেন। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩৭ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশ সমকামী-পুরুষ যৌনকর্মী। পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী।

 

 

 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্রে এ তথ্য মিলেছে।

 

 

 

সেন্টারটির কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, সর্বশেষ মে মাসের ২৫ তারিখ মারা যান ২১ বছর বয়সী এক বিবাহিত যুবক। ১৩ মে মারা যান ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী একজন। তারা তিনজনই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

তিনি জানান, এ নিয়ে ২০২৬ সালে কুমিল্লা জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২ জন, মার্চ মাসে ১ জন, এপ্রিল মাসে ১ জন ও মে মাসে ৩ জন মারা যান।

 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় বর্তমানে ৩৮৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুমেক এআরটি সেন্টারে চলতি বছর ৬৭২ জনের স্যাম্পল পরীক্ষায় ৩৭ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন টিবি ও এইচআইভি দুটিতেই আক্রান্ত।

 

 

যারা আক্রান্ত বা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ (সমকামী) যৌন সম্পর্কিত, ৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন বিবাহিত সম্পর্ক থেকে এবং ২ জন বিদেশে থাকা অবস্থায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে আরও আছেন নারী যৌন কর্মী দ্বারা ১ জন এবং দুইজন সাধারণ মানুষ। বাকি ৬ জন আক্রান্তের অধিকাংশও সমকামী। গত দুই মাসে তারা শনাক্ত হয়েছেন। তথ্যভান্ডারে এখনো তাদের প্রকৃতি প্রকাশ করা হয়নি। নিয়মানুযায়ী সবারই নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

 

 

 

২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমেকে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি টেস্টে ২৭৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত। বর্তমানে চিকিৎসা নিতে থাকা রোগীর সংখ্যা ৬১৫ জন। ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৪৬ জন মারা গেছেন। চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছেন ১৩ জন।

 

 

 

পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। কুমিল্লা এআরটিতে ২০১৯ সালের ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫টি পজিটিভ, ২০২০ সালে ৩১১টি পরীক্ষায় ৮টি পজিটিভ, ২০২১ সালে ৪৯৮টি পরীক্ষায় ১৪টি পজিটিভ, ২০২২ সালে ৭৮৬টি পরীক্ষায় ২১টি পজিটিভ, ২০২৩ সালে ১২৩০টি পরীক্ষায় ৪৮ জন পজিটিভ, ২০২৪ সালে ১৪৮১টি পরীক্ষায় ৫৮ জন পজিটিভ, ২০২৫ সালে ১৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২টি পজিটিভ এবং ২০২৬ সালের ৫ মাসেই ৬৭২টি পরীক্ষায় ৩৭টি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

 

 

দৌলতদিয়ায় পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সবাই

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বাসে থাকা চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে। 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বাসটি পন্টুনে ওঠার আগেই সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

 

 

ঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এস বি পরিবহন’ এর একটি বাস সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে এসে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতির সময় বাসটি হঠাৎ পন্টুন থেকে ছিটকে তীব্র স্রোতের পদ্মা নদীতে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।

 

 

এসময় বাসে ছিলেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার।

 

 

 

বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও ঘাট শ্রমিকরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। 

 

 

 

বাসের চালক এবং তার সহযোগীদের (হেল্পার ও সুপারভাইজার) স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। 

 

 

আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

 

 

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস বি পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৭ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত পন্টুনে পৌঁছানোর আগেই বাসের সব যাত্রী নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো যাত্রী বাসের ভেতর ছিলেন না। 

 

 

 

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহায়তায় চালক ও তার সহকারীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

 

 

 

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের যৌথ দল নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পানি থেকে তোলা হয়েছে। তবে পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। 

 

 

 

পন্টুন থেকে বারবার এভাবে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

 

 

মাত্র দুই মাস আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে একটি বাস নদীতে পড়ে যায়, যাতে ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান। একের পর এক এমন দুর্ঘটনার জন্য ঘাটের পন্টুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
ফেরিঘাটে যানবাহনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঘাট ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ। 

 

 

চোটের কারণে খেলতে পারবেন না নেইমার

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে শনিবার (৬ জুন) মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামছেন না তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। তার কাফ মাসলের চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

 

 

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, চোটের কারণে নেইমার দলের সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না। তিনি নিউ জার্সির ট্রেনিং ক্যাম্পে থেকেই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চালিয়ে যাবেন।

 

 

 

৩৪ বছর বয়সী নেইমার পুরো মৌসুমজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করায় বিষয়টি নিয়ে আগেই আলোচনা চলছিল।

বিশ্বকাপের আগে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে পড়েছে সেলেসাও শিবির।

 

আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

 

 

নেইমারের চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

 

তেল-গ্যাসের পর বিদ্যুতে বাড়তি ব্যয়

মধ্য ও নিম্নবিত্তের খরচের চাপ আরও বাড়বে

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই চিড়েচ্যাপ্টা দশা সাধারণ মানুষের। নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি ধাপে খরচ শুধু বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তার প্রভাবে দেশে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) পেছনে খরচও আগের চেয়ে অনেকখানি বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা এক এক করে কৃষি, পণ্য সংরক্ষণ, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাতে খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুরেফিরে ভোক্তার কাঁধে এসে পড়ে। বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নবিত্তদের ওপর চাপ অনেক হারে বেড়ে যায়। তাদের টিকে থাকাকে আরও কঠিন করে তোলে।

 

 

 

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব বলছে, গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মার্চ মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। মার্চের চেয়ে এপ্রিলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দুটোই বেড়েছে। এপ্রিলে যা যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৯ ও ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, সব ধরনের পণ্যের পেছনে খরচের চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এ চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

বাজার বিশ্লেষক ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান কালবেলাকে বলেন, জীবনযাত্রার খরচের চাপে মানুষ ভালো নেই। এর মধ্যে যারা নির্দিষ্ট আয়ের (ফিক্সড ইনকাম) বা পেনশনের টাকায় চলেন, তারা খুব সংকটে রয়েছেন। পাশাপাশি খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও দরিদ্রদের ওপরও মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি। মধ্যবিত্তরাও এখন এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তাদের টিকে থাকতে ঋণ বাড়ছে। পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। অনেকে ঘর ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তারা সংসার খরচে কাটছাঁট করছেন। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। বর্তমান সরকার বলেছিল বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু সেটা তো হলো না।

 

সাবেক এ বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ল। স্বাভাবিকভাবেই বাজার ও অর্থনীতিতে এর ‘রিপল ইফেক্ট’ (ছড়িয়ে পড়া) পড়বে। এটা উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দেবে, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ও প্রক্রিয়াজাতে ব্যয় বাড়তে পারে, শিল্প খাতসহ পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার খরচের চাপ বাড়বে। সেইসঙ্গে ঋণের বোঝাও বাড়বে। মূল্যস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে। গত বুধবার রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন। যদিও গতকাল বৃহস্পতিবার তা আংশিক সংশোধন করে আবাসিক খাতে দুই শ্রেণির গ্রাহকের জন্য আগের দাম নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে এ সংশোধন করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন শ্রেণি এবং প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর জন্য আগের দাম পুনর্বহাল করতে বিতরণ সংস্থাগুলো আবেদন বিবেচনায় নিয়ে এ দুই শ্রেণির জন্য আগের দাম বহাল রাখা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে নীতিগত ব্যর্থতা দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম। কালবেলাকে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ না করে সাধারণ জনগণের ওপর দামের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ খাতে অন্যায়ভাবে যে ঘাটতি বেড়েছে, ব্যয় বেড়েছে, মুনাফা বেড়েছে, এখান থেকে টাকা আত্মসাৎ হয়েছে; সেসব জায়গা থেকে ‘প্রটেক্ট’ না করে, কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। মানে, সহজ পথে হেঁটেছে সরকার। আগে এ খাতের অনিয়মগুলো দূর করতে হবে।

 

 

 

ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, এর প্রভাব খাদ্য থেকে শুরু করে কৃষি, উৎপাদন, পণ্যমূল্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ে পড়বে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে এবং মানুষের ভোগ ব্যয় কমবে, পণ্য ও সেবা ক্রয় কমবে। সার্বিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রা সংকুচিত হবে। সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার যে কথা বলছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কৌশলগত পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

 

 

 

গত ৩১ মে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে গত মার্চ থেকে চলতি জুন সময়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ওঠানামা করে সর্বশেষ ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় ঠেকেছে। মার্চে যা ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ, সিলিন্ডারের পেছনে ভোক্তার ব্যয় ৫৪৪ টাকা বা ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

 

 

 

 

বাজার, যাতায়াত, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি ব্যয়ের মাঝে রান্নার গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে বেসরকারি চাকরিজীবী মো. জসিব উদ্দিনের। রাজধানীর কালশী এলাকার বাসিন্দা এ ব্যক্তি কালবেলাকে বলেন, ‘প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট বেতনের টাকায় সংসার চালাতে হয়, তা দিয়ে বাসা ভাড়া, যাতায়াত ও বাজারের খরচ সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হয়। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ছে। সিলিন্ডার গ্যাসের পেছনে খরচ অত্যধিক বেড়েছে। আবার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়। এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ায় আরও কত খরচ জানি বেড়ে যাবে। কিন্তু বেতন তো সেভাবে বাড়ে না। ওদিকে ঋণ পরিশোধেরও চাপ রয়েছে। কোন খরচ বাদ দিয়ে কোনটা সামাল দেব—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটে।’

 

 

 

 

টিকে থাকতে সংসারের অনেক খরচ বাদ দিয়েছেন কদমতলী এলাকার অটোরিকশা চালক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মাছ-মাংস খাওয়া প্রায় বাদ দিছি। পরনের কাপড় কেনা কমাইছি। বিয়া-সাদির অনুষ্ঠানেও যাই না। আর কত কাটছাঁট করা যায়। আগে দূরের ট্রিপ দিলে বাইরে খাইতাম। খরচ বাচাইতে এখন তাও খাই না।’

 

 

 

এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের মালিকরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়ছে। এর প্রভাব খাবারের দামে পড়তে পারে।

 

 

 

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান কালবেলাকে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়লে রেস্তোরাঁগুলোয় খাবার প্রস্তুতেও খরচ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা এ বাড়তি ব্যয় কোথা থেকে সামাল দেবেন। ফলে খাবারের দামেও প্রভাব পড়ে। কিন্তু আমরা দাম সেভাবে বাড়াতেও পারি না। কারণ, দাম বাড়ালে গ্রাহক হারাতে হয়। এমনিতেই মানুষ এখন বাইরে খাওয়া কমিয়েছে। গ্রাহক কম পাচ্ছি। সেখানে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সংকট আরও বাড়বে।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

নওগাঁয় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ

 

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নওগাঁ জেলা শাখার সদস্য সচিবসহ দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে আগামী ৩কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতেও বলা হয়েছে ওই নোটিশে।
বৃহস্পতিবার (৪জুন) দিবাগত রাতে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ তথ্য জানানো হয়।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন, খন্দকার তারিকুল ইসলাম দিপু। তিনি এনসিপির নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। এবং অপরজন দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ। তিনি দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরত্বর একটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। কাজেই উল্লিখিত বিষয়ে কেন আপনাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে এই নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বরাবর লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এদিকে নোটিশে শোকজের সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও এনসিপির নওগাঁ জেলার এক কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে শুক্রবার ৫জুন সকালে বিষয় নিশ্চিত করেছেন সদ্য শোকজ হওয়া দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ।
এনসিপি নেতা সোহাগ বলেন, ‘আমাকে ঠিক কী কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আমি অবগত নই। তবে ধারণা করছি, এনসিপি-র নওগাঁ জেলার একজন কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রেখে উনার পছন্দের কোনো ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার উদ্দেশ্যেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ​এর আগে গণভোট প্রচারণার ক্ষেত্রেও ওই নেতার ব্যক্তিগত পছন্দের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে নওগাঁয় গণভোট প্রচারণা স্থবির হয়ে পড়েছিল। আমি বরাবরই যোগ্যদের অবমূল্যায়ন এবং অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসার তীব্র বিরোধিতা করে আসছি। মূলত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আমি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছি। যেহেতু চাঁদাবাজি বা মামলা-বাণিজ্যের মতো কোনো অনৈতিক ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের সাথে আমি জড়িত ছিলাম না, তাই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আমাকে শোকজ করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি দেখছি না।’
সোহাগ আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকেই জেলা সংগঠকের দায়িত্বে ছিলাম আমি এবং দীপু। আমরাই পুরো নওগাঁর এনসিপিকে গুছিয়ে নিয়েছি। অথচ আজকে আমাদেরকেই শোকজ দেয়া হলো ব্যাক্তিগত আক্রোশ থেকে। তবে নওগাঁ জেলার কেন্দ্রীয় সেই নেতার নাম বলেননি তিনি।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেন হোসেনপুরের কৃতী সন্তান সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর প্রকাশিত এ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কিশোরগঞ্জ জেলার হাফ ডজনেরও বেশি নেতা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের কৃতী সন্তান ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন।
‎বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।
‎এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর সেই কমিটিকে সম্প্রসারণ করে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
‎রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
‎বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে রাজপথের নানা কর্মসূচিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, পরিশ্রম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তার মূল্যায়ন হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
‎কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন বলেন, “দল ও দেশের স্বার্থে আমি সবসময় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে রাজপথে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।”
‎তিনি আরও বলেন, “ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে। আমি বিশ্বাস করি, নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে যুবদল আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করবে।”
‎যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কিশোরগঞ্জের একাধিক নেতার অন্তর্ভুক্তিকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
‎কমিটি ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নবনির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও শুভেচ্ছা বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
‎কেন্দ্রীয় কমিটিতে শাহিনের অন্তর্ভুক্তির খবর প্রকাশের পর হোসেনপুরসহ কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।
‎দলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

যমুনা সেতুতে একদিনে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা টোল আদায়

 

ঈদের সরকারি ছুটি চারদিন আগে শেষ হলেও পোষাককর্মীদের ছুটি শেষ হয় বৃহস্পতিবার থেকে। রাত থেকেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের পোষাককর্মীরা। যে কারণে যমুনা সেতুতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ।

 

 

 

গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর উপর দিয়ে পার হয়েঠে ৪৩ হাজারেরও বেশি গাড়ী, টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও যমুনা সেতুর উপর বেশ কয়েকটি গাড়ী বিকল হয়ে পড়ায় সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৪৩ হাজার ৯০৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫০ টাকা।

 

 

 

এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ১৯ হাজার ৫৩৮টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ২৪ হাজার ৩৭১টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৫০ টাকা।

 

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, যার ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এরমধ্যে ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো বিকল হয়ে পুরো লেনটি অবরুদ্ধ (ব্লক) হয়ে পড়ে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী দূরপাল্লার একাধিক ত্রুটিপূর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস বিকল হয়ে পড়ে। ফলে উভয় লেনেই যানজট সৃষ্টি হয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

 

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম র ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ যানজট রয়েছে।

 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক তপন কুমার সূত্রধর জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট রয়েছে। যানজট নিরসনে উত্তরবঙ্গগামী লেন বন্ধ করে উভয় লেন দিয়ে ঢাকামুখী গাড়ী পার করা হচ্ছে।

 

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসকর্মীরা কর্মস্থলে ফিরছেন। যার ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। ভোররাতে যমুনা সেতুর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিকল হয়ে পুরো লেন ব্লক হয়ে যায়। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী রিজার্ভ নেওয়া লোকাল লক্কর-ঝক্কর একাধিক গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। এসব কারণে উভয় লেনেই যানজটের সূত্রপাত হয়। রেকার দিয়ে বিকল হওয়া পরিবহণ অপসারণ করার ফাঁকেই যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। আমরা যানজট নিরসনে রাত থেকেই কাজ করছি। আশা করছি দ্রুতই যানজট নিরসন হবে।

 

 

 

আবারও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ল

রাজবাড়ীর দৌলত‌দিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে এসবি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এসময় চালক ও সহকারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুনে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

 

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস থেকে যাত্রী নামানো অবস্থায় ছিল বলে মনে হচ্ছে।

 

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

 

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

গজারিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৯:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া উপজেলায় পৃথক মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ১৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকস টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের একপর্যায়ে দক্ষিণ ফুলদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫২ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— শাহাদাত হোসেন (৩৯), পিতা: আব্দুল বাসেত; মাহিন (২৪), পিতা: মো. মিজান; এবং মেহেদী হাসান রনি (২৫), পিতা: জহিরুল ইসলাম। তারা সবাই দক্ষিণ ফুলদী এলাকার বাসিন্দা।
অপরদিকে, গোয়ালগাঁও এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১০০ পিস ইয়াবাসহ রোমান ওরফে হোমা (২৪) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তার পিতা শহর উদ্দিন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। তারা গজারিয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

রায়গঞ্জে চায়না-৩ লিচুর আকাশছোঁয়া দাম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মৌসুমি ফল লিচুর বাজারে এবার দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বাগান থেকে শুরু করে খুচরা বাজার—সব জায়গাতেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। বিশেষ করে জনপ্রিয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই জাতের লিচু পিসপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
ফলন কম ও চাহিদা বেশি থাকায় চায়না-৩ লিচুর দাম এবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চায়না-৩ জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর সরবরাহও বেড়েছে। তবে এসব জাতের দাম তুলনামূলক কম। বোম্বাই ও মাদ্রাজি লিচু প্রতি ১০০টি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর চাহিদা কম থাকায় প্রতি ১০০টির দাম ২২০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে লিচুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের চায়না-৩ জাতের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।
ব্যবসায়ীরা জানান, আকারে বড়, আকর্ষণীয় রং এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে এ বছর ফলন কম হওয়ায় বাজারে এই জাতের লিচুর সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
লিচুর বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একসময় যে মৌসুমি ফল সহজেই কেনা যেত, এখন তা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় গৃহিণী সাবিনা বলেন, “একসময় অতিথি আপ্যায়নে লিচু রাখা স্বাভাবিক ছিল। এখন ১০০ লিচুর দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় চাপ।”
অটোরিকশাচালক সুইট বলেন, “বাচ্চারা লিচু খেতে চায়, কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হয়। নিত্যপণ্যের খরচ সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে।”
মধ্যবিত্ত ক্রেতা হাসেমের ভাষ্য, “আগে মৌসুমে অন্তত এক-দু’শ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত। এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কষ্টের।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিজীবী বলেন, “ফলন কমেছে, এটা ঠিক। কিন্তু প্রতি পিস ৭-৮ টাকা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল হক জানান, উপজেলায় প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে চায়না-৩ জাতের লিচুর ফলন আশানুরূপ হয়নি। তবে অন্যান্য জাতের লিচুর উৎপাদন ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, “চায়না-৩ লিচুর ফলন কম হওয়ায় এর বাজারমূল্য বেড়েছে।
অন্যদিকে অন্যান্য জাতের ফলন ভালো হলেও অনেক কৃষক গত বছরের তুলনায় কম দাম পেয়েছেন। প্রতিবছরই রায়গঞ্জে লিচুর আবাদ বাড়ছে, যা এ অঞ্চলের কৃষির জন্য ইতিবাচক দিক।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ুগত পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মৌসুমি ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয় এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দামের ওপর।
রায়গঞ্জের লিচুর বাজারেও এবার সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের মধ্যেআলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বেলকুচিতে বিকল অটোভ্যানকে চাপা দিল বাস, স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের মেয়ে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার মৃত বাছের সরকারের ছেলে মো. মোতালেব সরকার (৪০), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) ও জামতৈল গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যানের চালক মো. নুরু (৪৫)।

 

আহত তামান্না খাতুন (১৬) মোতালেব সরকারের মেয়ে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেঘুল্লা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে এনায়েতপুরগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহণের দ্রুতগামী একটি বাস বিকল হওয়া ভ্যানটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গুরুতর আহত হন তামান্না খাতুন।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। আহত তামান্নাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশংকাজনক।

 

তিনি বলেন, বাসটিকে আটক করা হলেও এর চালক-হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

বেলকুচিতে বাসচাপায় তিন অটোভ্যানযাত্রী নিহত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় তিন অটোভ্যানযাত্রী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

বিস্তারিত আসছে……

 

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ: পদত্যাগ করলেন সিআইডি প্রধান

পদোন্নতি বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর তিনি এ আবেদনপত্র দাখিল করেন।

 

বৃহস্পতিবার পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়। যাদের মধ্যে দুজন আলী আকবর খানের ব্যাচের (১৫তম) এবং তিনজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। সেই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় আলী আকবর খানের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় তিনি পিআরএলের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

 

 

আবেদনপত্রে আলী আকবর খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

 

আবেদনে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণেই তিনি পুনরায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পদোন্নতির তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন। তাই নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে তিনি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি।

 

আবেদন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে তার এ অবসর কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) মঞ্জুরের জন্যও আবেদন করেছেন এই কর্মকর্তা।

 

অন্যদিকে একই দিন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

পত্রে বলা হয়, আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং ২ জুলাই ২০২৬ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সূত্র: কালবেলা

 

আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং করেন হান্নান মাসউদ

এমপি হতে হান্নান মাসউদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কারা শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন শুরু করে?’

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

 

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, ৭ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে হান্নান মাসউদ। ৭ আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেইলি রোডের কেএফসিতে হাতিয়ার আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয় মাসুদের। সেখানে এই ছবির কয়েকজনসহ আরও উপস্থিত ছিলেন, জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাতিজা রাজু। ৭ আগস্টের পরে ১২ এবং ১৫ আগস্টেও বাংলামোটরের ওয়াটারফল রেস্টুরেন্টে মিটিং হয়। এই ছবিটি ২২ আগস্ট হোটেল ফার্সে তোলা।

 

ছবিতে আছেন, (১) আব্দুল হালিম আজাদ ওরফে পিচ্চি আজাদ, চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি; (২) নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া, সোনাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের সভাপতি; (৩) মেরাজ উদ্দিন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান; (৪) আলাউদ্দিন বাবু, তমরদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক; (৫) যুবলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন রতন প্রমুখ।

 

এসব মিটিংয়ের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, কীভাবে হান্নান মাসউদ হাতিয়ার এমপি হবে। অর্থাৎ শহীদের রক্ত শুকানোর আগেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের হাত ধরে এমপি হওয়ার বন্দোবস্ত শুরু হয়। এবার আমারে কন, কারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন শুরু করে?

 

তীব্র তাপমাত্রা কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

রাজধানীসহ সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েছে। ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়েছে পড়েছেন অনেকে। শুক্রবার (৫ জুন) থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর।

 

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকাসহ দেশের ৪৮টি জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে একসঙ্গে এতগুলো জেলায় তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটলেও এবার বর্ষা আসতে দেরি হওয়ায় গরমের তীব্রতা ও বিস্তৃতি দুটোই বেড়েছে।

 

তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, ‘এখন জ্যৈষ্ঠ মাস শেষপর্যায়ে। মৌসুমি বায়ু আসার আগ পর্যন্ত এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গরম থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে আসার কারণে এতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বা ময়েশ্চার রয়েছে। বাতাসে ময়েশ্চার বেশি থাকলে তা তাপ ধরে রাখে, ফলে চারপাশের বাতাস বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ময়েশ্চার বেশি হওয়ায় শরীর থেকে ঘাম শুকাচ্ছে না, যা চরম অস্বস্তি তৈরি করছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘শারীরিক অস্বস্তির আরেকটি বড় কারণ হলো দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়া। গত রাতে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত রাতের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির নিচে থাকলে মানুষ আরাম বোধ করে। কিন্তু এখন রাত শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় গরম শুরু হয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষের শরীর ঠান্ডা হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।’

 

নরসিংদী মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার-১

নরসিংদীর মাধবদীতে কর্মস্থল হতে ফেরার পথে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ এবং পরে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে মোশাররফ ও মাহবুব নামের দুই যুবকের বিরদ্ধে।

 

 

 

বুধবার (০৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলাণপুর গ্রামে অভিযুক্ত মাহবুবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

 

 

 

অভিযুক্তরা হলেন মেহেরপাড়া এলাকার পৌলাণপুর গ্রামের মৃত মোতালেব মেম্বারের ছেলে মোশাররফ হোসেন (৩০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে মাহবুব। এরমধ্যে মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন।

 

 

টেক্সটাইল শ্রমিক ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, বুধবার রাতে চৈতাব এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে পৌলাণপুর গ্রামের মোশাররফ ও মাহবুব নামের দুই যুবক তাকে জোর করে মাহবুবের পৌলাণপুরের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কক্ষে তার ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেওয়া হয়—এ বিষয়ে কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এসময় ভিডিও ভাইরালের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে যুবকরা দুই হাজার টাকা আদায় করে।

 

 

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা দুই হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি রাতেই মাধবদী থানায় জানান।

 

 

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে পৌলাণপুর গ্রামের মোশাররফ ও মাহবুব এর নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে এবং সকালে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে মাহবুব নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপরজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

 

বিশ্বকাপ ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী জানিয়ে চমকে দিল হাঙর ‘রিতিনিয়া’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় এসেছে এক হাঙর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো অ্যাকুয়ারিয়ামের হাঙর ‘রিতিনিয়া’ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে সেলেসাওদের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে রীতিমতো চমকে দিয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের।

 

 

 

বুধবার (৩ জুন) রিও ডি জেনেইরো অ্যাকুয়ারিয়ামে বিশেষ এক আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার লড়াইয়ের সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করা হয়। এ সময় হাঙর রিতিনিয়ার সামনে দুই দলের প্রতীকসংবলিত বিকল্প রাখা হলে সেটি ব্রাজিলের প্রতীক বেছে নেয়। বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের অভিযান শুরু করবে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। শক্তিশালী আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

 

ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রাণীদের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণীর বিষয়টি নতুন নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিখ্যাত অক্টোপাস ‘পল’ একাধিক ম্যাচের সঠিক ফলাফল অনুমান করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই এবার রিও অ্যাকুয়ারিয়ামে হাঙর রিতিনিয়াকে নিয়ে এই আয়োজন করা হয়। তবে রিতিনহার ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত কতটা সত্যি হবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।

 

 

শুধু দাম বাড়িয়ে জনতার ওপরে বোঝা চাপানো যাবে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘সরকার বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়িয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে নীতি দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার দায় জনগণের ওপরে চাপানো যাবে না।’

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সরকার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েক দফা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ গত মার্চের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। দাম বৃদ্ধি তাদের হতাশ করেছে। মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের নীতি ভ্রষ্টতা, দুর্নীতি ও স্বার্থ-বিরুদ্ধ চুক্তি দ্রুত পর্যালোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু দাম বাড়িয়ে জনতার ওপরে বোঝা চাপানো যাবে না।’

 

কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ, ছেলে পলাতক

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাকে হত্যার পর নিজ ঘরের মেঝেতে মরদেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মেঝে খুঁড়ে গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত ছেলে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

 

 

 

ঘটনাটি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ঘটেছে। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত তার ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০)।

 

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুনের পর থেকে মারুফা বেগমকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বুধবার বিকেলে নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়ার স্ত্রী ঘরের বিছানার তোষক সরানোর সময় রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের জানানো হলে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

একপর্যায়ে জুয়েল মিয়ার শয়নকক্ষের মেঝের একটি অংশ সম্প্রতি খোঁড়া হয়েছে বলে মনে হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতেই মেঝে খনন করে একটি গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি মারুফা বেগমের বলে শনাক্ত করা হয়।

 

 

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহতের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর ঘটনাটি গোপন রাখতে মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জুয়েল মিয়ার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

মাজারের দানবাক্স খুলে চমকে গেলেন কর্তৃপক্ষ, মিলল ৩৪ লাখ টাকা

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারের ১৫টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে ২৫ শিক্ষার্থীর সহায়তায় অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিনে গণনা শেষ না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে পুনরায় গণনা শুরু করা হয়। বিকেলে গণনা শেষে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

 

 

গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল জানান, দুই দিনব্যাপী গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে মোট প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে অর্থ মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

মাজার কমিটির সদস্যরা জানান, এবার দানবাক্সের সংখ্যা বেশি থাকায় আগের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দীর্ঘ সময় পর খোলা ১৫টি লোহার সিন্দুক টাকা, পয়সা, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের দেওয়া স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকারে পরিপূর্ণ ছিল। দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রথমে বস্তাবন্দি করে মাজার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তা গণনা করা হয়।

দানবাক্সের অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া তাদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এমন কাজে দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে এ অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে তারা মনে করেন।

 

 

এর আগে প্রায় তিন মাস আগে খোলা পাঁচটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। মাজার কর্তৃপক্ষের মতে, বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরস মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হওয়ায় এবার দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী মাজারে আসেন এবং দান করেন। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাজারের উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।

 

নাবিল গ্রুপে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ, বেতন ৩৫ হাজার পর্যন্ত

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি দিচ্ছে শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও)’ পদে ২০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: নাবিল গ্রুপ

বিভাগের নাম: সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং

পদের নাম: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও)

পদসংখ্যা: ২০ জন

 

চাকরির ধরন: বেসরকারি, ফুল টাইম

 

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিএ অথবা স্নাতক/সমমান

 

অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

 

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা: ৩৫,০০০ টাকা

 

বয়সসীমা: ২৩ – ৩০ বছর

 

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

 

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

আবেদন শুরু: ৪ জুন ২০২৬

 

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ জুন ২০২৬

 

সরকারি মালামাল আত্মসাতের পর চুরির নাটক, তদন্তে প্রশাসন

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি, চোর চিহ্নিত এবং সে মালামাল জব্দ হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে মামলা করেননি এ কর্মকর্তা।

 

 

এদিকে আদালতের অনুমতি ছাড়া কেবল মুচলেকা নিয়ে উদ্ধার হওয়া মালামাল থানা থেকে ফেরত আনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মালামালগুলো অভিযুক্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম নিজেই বিক্রি করে চুরির নাটক সাজিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত ২০ লিটারের ১১০টি বালতি ও ১১০টি ঢাকনা, ১০ লিটারের ২৯০টি জেরিকেন, ৪টি সিলিং ফ্যান, চার শতাধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও চার শতাধিক ন্যাপকিনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল গায়েব হয়ে যায়।

চুরির ১৪ দিন পর, গত ১ মে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।

সেই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রৌমারী বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, আব্দুল মালেক, শহিদুর রহমান, মনজুর আলম ও প্রদীপ চন্দ্রের দোকান থেকে বালতি, জেরিকেন ও কিছু টুল জব্দ করে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন— মালামাল চুরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়নি? বাজারে প্রকাশ্যে দোকানে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত সরকারি মালামাল ধরা পড়ার পরই কেন কেবল জিডি করা হলো?

 

 

এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না করে, মুচলেকার মাধ্যমে থানা থেকে মালামাল ফেরত আনা হলো কার স্বার্থে?

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নিজেই এসব মালামাল বিক্রি করেছিলেন। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চুরির নাটক সাজান। অবশেষে চুরির ঘটনা ঢাকতে না পেরে লোকদেখানো জিডি করেন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করে মালামাল ফেরত এনে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

 

মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেছে।’

 

 

সাংবাদিকদের জিডির কপি দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে যে নির্দেশনা দেবেন, আমি তাই পালন করতে বাধ্য। আপনারা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন।’

 

 

তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমি তো মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। সে কেন মামলা করল না, তা আমি তার কাছে জেনে জানাব।’

 

 

এদিকে বৃহস্পতিবার থানা থেকে ফেরত আনা মালামালের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি একপর্যায়ে তিনি দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের বাধার মুখে তিনি ব্যর্থ হন।

 

 

আদালতের অনুমতি ছাড়া উদ্ধার হওয়া চুরির মালামাল এভাবে ফেরত দেওয়া যায় কি না— জানতে চাইলে রৌমারী থানার ওসি মো. কাওসার আলী বলেন, ‘জিডিমূলে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ জব্দ করা মালামাল জিম্মায় ফেরত দিতে পারে।’

 

 

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চুরি যাওয়া মালামালের ব্যাপারে কেন মামলা করা হলো না, সেটি আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইব এবং বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’

 

 

মাত্র ২০০ টাকায় মাঠে বসে দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

আসন্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য টিকিটের মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে বিসিবি। সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে ওয়ানডে সিরিজের টিকিট। সর্বোচ্চ দাম ২৫০০ টাকা।

 

 

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিকিটের দাম প্রকাশ করেছে বিসিবি। সর্বনিম্ন ২০০ টাকাতে পাওয়া যাবে ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিট। একটু বেশি অর্থাৎ ৪০০ টাকা খরচ করলেই মিলবে নর্দার্ন গ্যালারি বা শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের টিকিট। ক্লাব হাউসের টিকিট কিনতে খরচ করতে হবে ৬০০ টাকা। ক্লাব হাউসের উত্তরের শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড এবং দক্ষিণের শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম একই, ৬০০ করে।

 

 

করপোরেট ব্লকে বসে খেলা দেখতে চাইলে আরেকটু বেশি টাকা খরচ করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ দক্ষিণ এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি দক্ষিণের টিকিট কিনতে খরচ করতে হবে ১৫০০ টাকা। এছাড়া মিডিয়া ব্লকের ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি উত্তরের টিকিট পাওয়া যাবে ১৫০০ টাকাতেই।

সবচেয়ে চড়া দাম গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের। আপার এবং লোয়ার দুই ক্ষেত্রেই গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ২৫০০ টাকা।

৯, ১১ এবং ১৪ জুন মাঠে গড়াবে সিরিজের তিন ওয়ানডে ম্যাচ।

 

শাকিবের নতুন লুক আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে মুগ্ধ মিম

ঢালিউডে যেন বইছে নতুন এক হাওয়া। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক রূপান্তরে চমকে দেওয়া সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়ে এবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। শাকিবের সাম্প্রতিক ভোলবদল, পর্দাজুড়ে নতুন নতুন লুক আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে মুগ্ধ এই নায়িকা। শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি, ইঙ্গিত দিয়েছেন ভবিষ্যতে আবারও বড় পর্দায় এই বদলে যাওয়া তারকার সঙ্গে জুটি বাঁধার সম্ভাবনারও।

 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খানের বর্তমান লুক ও কাজের পরিবর্তনের প্রশংসা করে মিম বলেন, ‘এটা ভালো লাগছে। দিন দিনি উনি নিজেকে পরিবর্তন করছেন।’

 

 

শাকিব খানের ফ্যাশন ও লুক নিয়ে নিজের আগের ভাবনার কথা জানিয়ে এই নায়িকা আরও বলেন, ‘উনার সাথে যখন আমার কাজ হতো, আমি সবসময় চাইতাম যে, উনাকে যেন ভিন্ন ভিন্ন লুকে দেখা যায়। সেটা মেইনটেইন করছেন এখন। আমাদের দেখতেও ভালো লাগছে তাকে।’ বিগত কয়েক বছরে পর্দায় শাকিব খানের এই বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি দর্শকের পাশাপাশি মিমকেও দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। শাকিবের সঙ্গে আগামীতে আবারও রূপালি পর্দায় স্ক্রিন শেয়ার করার সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে মিম বেশ ইতিবাচক সাড়া দেন।

মিম জানান, শাকিব খানের সঙ্গে পুনরায় কাজের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো নেই তার। যদি ব্যাটে-বলে সুন্দর কোনো প্রজেক্ট মিলে যায়, তবেই দেখা মিলবে এই জুটির। তার কথায়, ‘যদি কখনও ঠিকঠাক সবকিছু মনে হয়, প্রজেক্ট আসে, সো তখন হয়তো করা হবে।’

উল্লেখ্য, শাকিব খান ও বিদ্যা সিনহা মিম জুটি বেঁধে অতীতে বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এই সিনেমাটি ছিল এই তারকা জুটির সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার হিট। পাশাপাশি খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত ‘জোনাকির আলো’, উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘আমি নেতা হবো’ সিনেমাতেও জুটি বেঁধেছিলেন।

 

উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন দুলু

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রয়োজন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টায় ঐতিহ্যবাহী নাটোর প্রেস ক্লাবের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

হুইপ দুলু বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম দেশের গণতন্ত্রের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের উচিত স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করা। সরকার এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। দেশে গণতন্ত্র সুসংহতকরণ ও উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে নাটোর প্রেস ক্লাব নির্মাণে অর্থসহ জায়গার বন্দোবস্ত করে দেন। ঐতিহ্যবাহী নাটোর প্রেস ক্লাব সুবর্ণজয়ন্তির পথ পরিক্রমায় রয়েছে। আগামীতে নাটোর প্রেস ক্লাবের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস বলেন, আমরা সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিপদে-আপদে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই, তাদের আর্থিক অবস্থানকে সুসংহত করতে চাই।

নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি যুগান্তর প্রতিনিধি মো. শহীদুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাংলাভিশন প্রতিনিধি কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

 

 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন— নাটোর জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, এনসিপির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক রকিব উদ্দিন, ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি এস এম সেদরুল হুদা ডেভিড, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক টুকু, নাটোর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন ও রনেন রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার হায়দার যোসেফ ও স্থানীয় ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম প্রমুখ।

 

 

এ সময় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজহার আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আফতাব ও মোস্তাফিজুর রহমান শাহীনসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুলু নাটোরের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সব সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

 

 

শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধাশ্রমে বিধ্বংসী আগুন, ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

শ্রীলঙ্কার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাতজন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

 

 

পুলিশের তথ্যমতে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কালুতারা জেলার আঙ্গুরুওয়াতোতায় অবস্থিত মাউপিয়া সেভানা এল্ডারলি কেয়ার হোমে আগুনের সূত্রপাত হয়।

 

 

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের সবাই বৃদ্ধাশ্রমটির বাসিন্দা ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে ৭০ জনের বেশি প্রবীণ বাসিন্দা অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ব্যক্তিমালিকানাধীন এই বৃদ্ধাশ্রমের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

আগুনের মধ্য থেকে মোট ৫১ বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহত সাতজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

 

 

হোরানা ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্মিণী বিদানাগামাগের তত্ত্বাবধানে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বিড়ালের দেহও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

পেস বোলিং কোচের পর ফিল্ডিং কোচও ছাড়ছেন দায়িত্ব

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে আজ পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবেক অজি তারকা শন টেইট। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন জেমস প্যামেন্ট। যিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তবে গেল মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর দিন কয়েক আগেই পড়েছিলেন ইনজুরিতে। কোমরের চোটে এরপর থেকে বিশ্রামে রয়েছেন প্যামেন্ট। ফলে পাকিস্তানের পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও থাকছেন না এই ফিল্ডিং কোচ।

 

 

ইনজুরি সারতে বর্তমানে রিহ্যাভ চালিয়ে যাচ্ছেন প্যামেন্ট। কোমরের এই চোট থেকে সেরে উঠতে কতদিন সময় লাগবে সে বিষয়ে অনিশ্চিত। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এক বছরে তিনবার চোটে পড়ায় ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছেন না প্যামেন্ট। যদিও ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তি রয়েছে।

 

 

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্যামেন্টকে না পাওয়ায় ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির কোচ আশিক মজুমদার। সবশেষ পাকিস্তান সিরিজেও তিনি ফিল্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে সাদা বলের সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ৯, ১১ ও ১৪ জুন ঢাকার শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে চট্টগ্রামে যাবে উভয় দল। সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

 

বিশ্বকাপের অ্যালবামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব সঞ্জয়ের

বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চে এবার আরও উজ্জ্বল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই এলো নতুন সুখবর—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামেও জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়।

 

 

নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন সঞ্জয়। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘অনেক দিন ধরে এটার অপেক্ষায় ছিলাম। সান হোসেতে (ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর) দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে বড় হতে হতে দিনের পর দিন পার করেছি গান তৈরিতে। সবসময় স্বপ্ন দেখতাম, এমন কিছু গান বানানোর, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ও সাউন্ডট্র্যাকে জায়গা করে নেবে।’

 

 

নিজের এই অবিস্মরণীয় অর্জনকে উৎসর্গ করে সঞ্জয় আরও বলেন, ‘আজ অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি, আমি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। আমাদের তৈরি করা একটি গান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবের সাউন্ডট্র্যাক হতে যাচ্ছে, এটা ভাবতেই অন্যরকম লাগছে। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

এই সাফল্যকে কেবল নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না শিল্পী। তরুণদের অনুপ্রাণিত করে তিনি লেখেন, ‘এটি কেবল আমার একার জয় নয়। এটি সেই সমস্ত শিশুর জয়, যারা চার দেয়ালের ঘরে বসে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখার সাহস বুনে চলে।’

ফিফা বিশ্বকাপের এই বিশেষ অ্যালবামে সঞ্জয়ের গানটির শিরোনাম ‘সির সির’। গানটিতে তার সঙ্গে থাকছেন বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিম।

 

শিক্ষা খাতে নজিরবিহীন বরাদ্দের ইঙ্গিত: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মান উন্নয়নে আসছে বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এবারের বাজেটে জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশ বরাদ্দ চেয়েছিল মন্ত্রণালয়৷ সে চাওয়া অনুযায়ী ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার খোঁজ-খবর নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে৷ এখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপ (আত্মসাৎ) করা হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে ‘থোক বরাদ্দ’ থেকে আবারও শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরকালীন ভাতা চালুর কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী৷

 

2 thoughts on “ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট

আপডেট টাইম : ১১:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সেতুর উপর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যানজটের কারণে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হ‌ওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে তবে যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

 

 

শান্তিরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

 

সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।

 

 

 

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

 

 

 

চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

 

 

 

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

 

 

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।

 

 

 

পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাধার মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি।

 

এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি সদস্যদের এমন অবস্থানে প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল।

 

 

 

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।

 

 

প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, বিভাগসেরা জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান

 

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
এ অর্জনের খবরে নীলফামারী জেলায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্মান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।
শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তার নেতৃত্বে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে নীলফামারীর শিক্ষা খাত ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই স্বীকৃতি নীলফামারীর জন্য একটি গৌরবময় অর্জন। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এস এম সাদ্দামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ।

 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ফেসবুক পোস্টে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে।

 

এসব ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা এস এম সাদ্দামকে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, আমিও ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেখেছি। তবে ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কোন মেসেজ পাইনি।

বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরাইদহ (উত্তরপাড়া) গ্রামে সাপের কামড়ে মো. নুর-মোহাম্মদ (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পাশের বাড়ির একটি ঘরের খামারে খেলতে গিয়ে সেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ শিশুটির ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার এপেক্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর চাচা আব্দুল মালেক বলেন, “ঘরের খামারে হাত দেওয়ার সময় একটি সাপ নুর-মোহাম্মদের ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। পরে আমরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এপেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. ফ. ম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সাপে কামড়ানোর পর শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।”
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, “সাপের কামড়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

কৃষিখাতে প্রতারণা রোধে সৈয়দপুরে মোবাইল কোর্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাতের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা-র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বালু ও বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করে প্যাকেটজাত করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় ভেজাল কীটনাশক তৈরির কাজে ব্যবহৃত ও জব্দকৃত সামগ্রী প্রসিকিউশন কর্মকর্তার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডই সহ্য করা হবে না। ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ফসলের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের হয়রানি, প্রতারণা ও ফসল উৎপাদনে সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল দেখে সরে দাঁড়ালো পুলিশ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিশাল একটি মিছিল দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থক বাঁধের হাট বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীদের বিশাল জনস্রোতের মুখে তারা টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ও তীব্রতা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

 

এই বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়বো না।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীর মুখে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মিছিলের খবর আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ওসির দাবি, তারা শুরুতে মিছিলটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়তে বাধ্য হন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নব দম্পতিকে বিরল প্রজাতির গাছের চারা উপহার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের অনুষ্ঠানে নব দম্পতি কে বিরল ও  মহাবিপন্ন চাপালিশ, বৈলাম,বুদ্ধ নারিকেল  সহ বকুল, নিম ও পলাশ গাছের চারা উপহার  হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
 শুক্রবার ( ৫ জুন) দুপুরে   পরিবেশ  ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশের পক্ষ থেকে এ উপহার তুলে দেয়া হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন  সাংবাদিক এম,আতিকুল ইসলাম বুলবুল,  মো: সাজেদুল আলম,  লেখক-গবেষক উজ্জল মাহাতো, মো: লুৎফর রহমান,  এম,এ, মাজিদ, শামীউল হক শামীম, মৃণাল সরকার মিলু,  মো: আশরাফুল ইসলাম আসিফ ও সনাতন দাশ ও মুশফিকুর রহিম ফাহিম।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের  তাড়াশ উপজেলা পারিল গ্রামের বাসিন্দা  মো: আব্দুল লতিফের ছেলে ও সাংবাদিক হাদিউল হৃদয়ের সাথে পাশ্ববর্তী দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা  মো: জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌসের  বিয়ে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী এ উপহার নিয়ে হাজির হোন  পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ।
মুহূর্তেই বিয়ের অনুষ্ঠানে  এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। উৎসুক বরযাত্রী সহ বিয়ে বাড়িতে আগত  লোকজন  উপহার  দেখতে ভিড় জমান।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ বলেন,  আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস।   বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য অনুসঙ্গ।  পাশাপাশি বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সবাই কে সচেতন করতে গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
লেখক – গবেষক উজ্জল মাহাতো বলেন, এই ব্যতিক্রমী উপহার দেখে আমরা অভিভূত।  পরিবেশ সচেতনতায়  আমাদের প্রত্যকেই এমন ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, বিয়ের অনুষ্ঠানের মাহবুব ইসলাম পলাশ তাড়াশ উপজেলার ক্ষিরপোতা আনন্দ বৌদ্ধ বিহার, মাধাইনগর মিশনারী চার্চ, তাড়াশ উপজেলা মডেল মসজিদ ও শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্বরে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করেন।

হিলিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুরে শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দিনাজপুরের হিলিতে এক বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে হাকিমপুর উপজেলা আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৫টায় হিলি স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট গেট থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত ও পতাকা হাতে সমর্থকরা এই শোভাযাত্রা বের করেন। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হিলি রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন সাবেক হাকিমপুর পৌর মেয়র সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ এলে হিলির ফুটবলপ্রেমীরা মেতে ওঠেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সমর্থনে এ অঞ্চলে সবসময়ই ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও আর্জেন্টিনা সেরা খেলা উপহার দেবে এবং লিওনেল মেসির হাত ধরে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলবে। র‍্যালিতে ঢাক-ঢোলের শব্দে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ভূল্লী উপজেলার  ৫ নং শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বাং রোড সুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ মানিক হোসেন (৪৩), মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি (৪৫), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৪৭), মোঃ মনোয়ার হোসেন (৪০) এবং মোঃ মোখলেছ (৪৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে রয়েছেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোঃ জুবায়েত জাহিদ (৪৪), একই শাখার পিয়ন মোঃ আজাহার আলী (৫৪) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা (৫৫)। তারা সবাই নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি ডলার, সাতটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়াও উদ্ধারকৃত আলামত ও নথিপত্র যাচাই করে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কাফনের কাপড় পরে ৫৮ সেকেন্ডের মিছিল যুবলীগের

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। নেতাকর্মীদের হাতে থাকা ব্যানারে— হামে শিশুমৃত্যু, শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত স্লোগান লেখা ছিল। মিছিলটি বিদ্যুৎ ভবনের সামনে এসে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দেন।

আগ্রাবাদের মিছিলের বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমীনুর রশিদ জানান, আগ্রাবাদ এলাকার মিছিলের ভিডিও ফুটেজটি দেখে মিছিলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের পর মেয়েরও মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা ৪

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেলেন মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তামান্না। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ জনে।

 

 

নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার মৃত বাছের সরকারের ছেলে মো. মোতালেব সরকার (৪০), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) ও তাদের মেয়ে কলেজ ছাত্রী তামান্না খাতুন (১৬) এবং জামতৈল গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যানের চালক মো. নুরু (৪৫)।

 

এর আগে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেঘুল্লা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে এনায়েতপুরগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহণের দ্রুতগামী একটি বাস বিকল হওয়া ভ্যানটিকে চাপা দিলে এর চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন যাত্রীকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকালেই মারা যান বাবা মোতালেব সরকার ও মা ফজিলা খাতুন।

 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়ে তামান্নাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলের দিকে মারা যান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

“শাকিব খানের ঘরে জন্ম নিল কন্যাসন্তান”।

দুই পুত্রসন্তানের পর এবার কন্যাসন্তানের বাবা হলেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ১১ মে তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাসন্তান। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে শার্লিন খান।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সুখবরটি প্রকাশ করেন বুবলী।

 

 

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

পোস্টের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন বুবলী। যেখানে নবজাতকের নাম শার্লিন খান উল্লেখ করা হয়। সেখানে শাকিব খান ও বুবলীকে ‘এলেটেড প্যারেন্টস’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছিল। তবে সে সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও গণমাধ্যম থেকেও অনেকটা দূরে ছিলেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীর। পরে ২০২২ সালে বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। অপু বিশ্বাসের ঘরে তার আব্রাহাম খান জয় নামের আরেক ছেলে রয়েছে।

 

দুই পক্ষের বিরোধে সংঘর্ষ, নিহত একজন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গন্ডা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত জামাল মিয়া (৪৫) ওই গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জামাল মিয়ার সন্তান ও প্রতিবেশী সুজন মিয়ার সন্তানদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জামাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এদিকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সুজন মিয়ার স্ত্রী অজু আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

 

 

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, শিশুদের ঝগড়া থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

তরুণকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে গণপিটুনি

গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক তরুণকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ সংলগ্ন এলাকার একটি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম (২৬) প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। ‎ ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামিয়া কারমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার অফিস কক্ষে রবিউল ইসলাম এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতে নাতে আটক করেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থনীয় জনগণ তাকে মাকে চারদিকে থেকে পুলিশের সামনেই মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে গণপিটুনি শুরু করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ জনগণের বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ ভ্যানে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে সাঘাটা থানায় নিয়ে যান। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রটির সঙ্গে জোর করে ‘খারাপ’ কাজ করতে শুরু করলে ছাত্রটি চিৎকার করে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

“পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের”।

হবিগঞ্জের বাহুবলে নির্মাণাধীন বসতঘরের পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

মৃতরা হলেন— উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আইনউদ্দিন (৫০) ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেদের নির্মাণাধীন বসতঘরের পেছনে পানির লাইন মেরামতের জন্য গর্ত খনন করছিলেন বাবা-ছেলে। এ সময় পানি তোলারর জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে সেটি পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন দুজনই।

পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকতার মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

‘রকস্টার’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ‘সোলজার’ নিয়ে হাজির শাকিব

রকস্টার’-এর সাফল্যের জোয়ারে ভাসতে ভাসতেই ভক্তদের ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিলেন শাকিব খান। সান মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায় খুব শিগগিরই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত এবং হাই-ভোল্টেজ সিনেমা ‘সোলজার’। সিনেমা হলের এই ব্লকবাস্টার উন্মাদনার মাঝে নতুন এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে শাকিবিয়ানদের বাঁধভাঙা উল্লাস।

 

 

রকস্টার’-এর বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই নতুন প্রজেক্ট ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শাকিব খান। ‘সোলজার’ মূলত ‘রকস্টার’-এর আগের ছবি। এর সিংহভাগ শুটিং আগেই শেষ হলেও এতদিন তা আটকে ছিল। তবে সুখবর হলো, ছবিটির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে মেগাস্টার জানান, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন এই প্রজেক্টের আপডেট দিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘এই বছরই আরেকটি সিনেমা রিলিজ হচ্ছে, সেটিও সান মোশন পিকচার্সের ‘সোলজার’।

কিছুদিনের মধ্যে আমরা এর ক্যামেরা ক্লোজ করব। আবার নতুন করে সোলজার হচ্ছি। সিনেমার বাকি শুটিং দেশের বাইরে সম্পন্ন হবে। খুব শিগগিরই, এই বছরেই ‘সোলজার’ নামের একটি চমৎকার ও সুন্দর ছবি মানুষ দেখতে পাবে।’ কথায় কথায় নিজের রূপালি জগতের রঙিন ও দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এই নায়ক। ক্যারিয়ারের শুরুটা মাত্র তিন মাসের জন্য হলেও, কীভাবে যে প্রায় তিন দশক কেটে গেল, তা ভাবিয়ে তোলে এই তারকাকে।

তার কথায়, ‘আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি যখন আমার ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট ছিলাম। মাত্র তিন মাসের জন্য (ইন্ডাস্ট্রিতে) এসেছিলাম। কিন্তু কাজের মধ্যে দিয়ে সময়গুলো এমনভাবে পার হয়ে গেছে যে, ২৭ বছর কখন পার হলো টেরো পাইনি। জার্নিটা আসলে অনেক ভালো ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তবে অনেক চড়াই-উতরাই যে শুধু আমাদের সিনেমার মানুষ পার করেছে তা না; বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন ক্রাইসিস থাকে, বিভিন্ন কারণে আমাদের পুরো দেশ পিছিয়ে যায়। আবার তার মধ্য দিয়েই সিনেমাকে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে, যার যার সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করি এগিয়ে নিতে।’

 

 

শাকিব সবশেষে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব আমাদের সিনেমা যেন সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়। যে লক্ষ্যে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি, আপনারাও সবাই কাজ করে যাচ্ছেন; এত পজিটিভলি কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

সমস্ত নেগেটিভিটি যত আছে, সব নেগেটিভিটিকে পাশ কাটিয়ে আমরা সব পজিটিভ মানুষরা সামনে এগিয়ে যাব। ভালো ভালো কাজ করব। ইনশাল্লাহ, আমাদের দেশের জন্য অনেক ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসব।’

 

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক: ভাসানী জনশক্তি পার্টি

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। শুক্রবার (৫ মে) দেওয়া বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেছেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে।’

 

 

তারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দেবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে সংসার পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।’

 

 

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারের সব পণ্য ও সেবার মূল্যের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।’

তারা বলেন, ‘জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে এসে জনবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

এসএসসি পাস হলেই আবেদন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৯০ পদ খালি

এসএসসি পাসেই কাজের সুযোগ দিচ্ছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠাটির অধীনে বিভিন্ন অফিসগুলোয় ৭টি পদে ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে ৩ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি—

 

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন : অস্থায়ী

 

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

 

কর্মস্থল : দিনাজপুর

 

বয়স : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদন শুরু : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

 

আবেদনের শেষ তারিখ : ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত

 

আবেদন পদ্ধতি : অনলাইনে

 

আবেদনের নিয়ম : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদন ফি : টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-৬নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৭নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

রায়গঞ্জে চাতালে বিষাক্ত ঝুট পোড়ানো: ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা এলাকায় কয়েকটি চাউল কলে নিষিদ্ধ ঝুট (বস্তার উচ্ছিষ্টাংশ) পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সৃষ্ট বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ সরকার গত ৪ জুন সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘুড়কা এলাকার শিকদার ও শাপলা চাউল কলে ঝুট পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করা হচ্ছে। তার বাড়ি চাতালের নিকটবর্তী হওয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই সরাসরি বসতঘরে প্রবেশ করছে। ফলে ঘরের আসবাবপত্র, খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র কালো কালিতে ঢেকে যাচ্ছে।

 

লতিফ সরকার অভিযোগে আরও বলেন, “আমার বৃদ্ধ মা ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বারবার ঝুট পোড়ানো বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি। বরং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, চাতালগুলোতে ঝুট পোড়ানোর সময় সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

 

এ বিষয়ে এক চাতাল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানো যে নিষিদ্ধ, তা আমরা জানি। তবে আশপাশের অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তাই আমরাও ব্যবহার করছি।”

 

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ ফ ম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘলগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থামথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার ও সরদার গং এবং প্রামানিক গং এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে প্রামানিক গোষ্ঠীর নাসির মাস্টারকে গ্রামে ঢুকতে দিত না প্রতিপক্ষরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাসির মাস্টার বাড়ি গেলে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাসিরের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলা চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়। এ ঘটনাশ ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রামাণিক গোষ্ঠীর গৃহবধূ আমিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিরোধের জেরে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন তাদের মাঠের ধান কাটতে ও শুকিয়ে ঘরে তুলতে দিচ্ছে না। এমন কি তাদের পরিবারের পুরুষদেরকেও গ্রামে আসতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষরা ।

 

 

সরদার গোষ্ঠীর গৃহবধূ বুলু জানান, তাদের লোকজনকে মারপিট করা হয়েছে এবং নাসির মাস্টার গ্রামের অনেক ক্ষতি করেছে। তাই তাকে গ্রামে জায়গা দেওয়া হবে না।

 

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি মোকাবেলায অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিরাজগঞ্জে আ. লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতা কারাগারে

সিরাজগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওবায়দুল হক রুমি তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

এরা হলেন, জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলার বাঐতারা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগবাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হরিনা গোপাল গ্রামের মৃত জালাল শেখের ছেলে শুকুর মাহমুদ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ধলডোব গ্রামের মৃত ভোলা শেখের ছেলে ময়নুল হক এবং পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য দত্তবাড়ি মহল্লার মো. রফিকের ছেলে মো. রাব্বি।

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) জুয়েল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৪ আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে একজনকে হত্যা মামলায় বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

 

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসায় আগুন দিয়ে দুই ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।

 

যমুনা সেতু পশ্চিমে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এখনো যানজট-ধীরগতি

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ভোররাতে শুরু হওয়া যানজট এখনো রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে চলছে গাড়ী। সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঢাকামুখী লেনে যানজট থাকলেও উত্তরবঙ্গগামী লেনে স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

 

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মুলিবাড়ি কড্ডার মোড়, ঝাঐল ওভারব্রীজ ও কোনবাড়ী পার হয়ে নলকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে এই যানজট। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে রয়েছে যানবাহন।

 

 

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তার উপরে যানজট ভোগান্তিতে ফেলেছে কর্মস্থলে ফেরা অসংখ্য যাত্রী সাধারণকে।

 

 

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক প্রণয় কুমার জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানজট রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে গাড়ী চলছে। সেতুর টোলপ্লাজায় গাড়ী টানতে পারছে না। তবে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসকর্মীরা কর্মস্থলে ফিরছেন। যার ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। ভোররাতে যমুনা সেতুর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিকল হয়ে পুরো লেন ব্লক হয়ে যায়। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী রিজার্ভ নেওয়া লোকাল লক্কর-ঝক্কর একাধিক গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। এসব কারণে উভয় লেনেই যানজটের সূত্রপাত হয়। রেকার দিয়ে বিকল হওয়া পরিবহণ অপসারণ করার ফাঁকেই যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়।

 

 

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা ছিল। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি।

 

আসুন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবাই ৫টি করে গাছ লাগাই: এমপি কামরুজ্জামান রতন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি।
“নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, নদীমাতৃক বাংলাদেশ” স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের মোহাম্মদ আলী প্লাজা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি সাহাদাত পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন, এম. ইসহাক আলী, তপন চৌধুরী, হাসান জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন সরকার, আজিজুল হক পার্থ, আক্তারুজ্জামান শিকদার, আলমগীর হোসেন মিয়া, জাহাঙ্গীর শিকদারসহ স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্তত পাঁচটি করে গাছ রোপণ করি—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি গজারিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

যাত্রী সেজে ছিনতাই অটোরিকশা রহস্য উদঘাটন, ৪ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত একটি ছিনতাই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৩ জুন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা ব্রিজ এলাকায় পাঙ্গাসী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল শেখ (৩৫)-এর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা প্রথমে অটোরিকশাটি ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। পরে চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাসেল শেখ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান -এর নির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাঙ্গাসী গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে মো. আবু রায়হান, একই গ্রামের আ. রশিদ ফকিরের ছেলে রিপন ফকির, নওদা শালুয়া গ্রামের মো. বারেকের ছেলে মো. নাজমুল শেখ এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভাঙ্গাবাড়ী এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে আলী শেখ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

 

কুড়িগ্রামে ভুরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ আগুনে দোকান পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি

ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে কোটি টাকার ক্ষতি মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।
কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি দোকান থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন রূপ নেয় তীব্র ভয়াবহতার। ক্রমাগতভাবে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের একাধিক দোকানের মধ্যে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় দোকান ও দোকানে থাকা সমস্ত সরঞ্জাম।
আগুনের তীব্রতা ক্রমন্বয়ে বাড়তে থাকলে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও রক্ষা হয়নি দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। দোকানের মালিক এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দোকানগুলোতে মালামাল, টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ইত্যাদি সব মিলিয়ে কোটি টাকার মতো সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ব্যবসায়ীদের।
অনেকের মতে, অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা দোকান গুলো দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কোন কোন ব্যবসায়ীর আবার ঋণ রয়েছে যা পরিশোধের একমাত্র উৎস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো। আগুনে সব নিঃশেষ হওয়ার কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
তবে আগুনের সুত্রপাত বা আগুনের প্রকৃত কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস এবং প্রশাসন এ বিষয় তদন্ত করছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে সহায়তার দাবি এবং পুনর্বাসনের দাবি করেছেন।

 

ইসলামপুরে আমগাছ থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

‎জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় আমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় হযরত আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের লাউদত্ত গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।


‎স্থানীয়  সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির পাশের একটি আমগাছে হযরত আলীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাঁর গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে ইসলামপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।



‎ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”


‎​ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়।


‎এ ঘটনায় লাউদত্ত গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, নিহত হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো, তা এখনো সবার কাছে অজানা।

বিএসএফ’র ১৭জনকে পুশইনের চেষ্টা, শূন্য রেখায় আটকে দিল বিজিবি

নওগাঁর সাপাহারে সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)।
তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা। বর্তমানে ওই ১৭জনকে শূন্য রেখায় আটকে রেখে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বিজিবি।
এতে ওই এলাকায় উৎসুক জনতার ভীড় বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে পুশইন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। সংবাদ পাওয়ার পর হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ১৭জনকে ভারতীয় শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় সনাক্ত করে। পুশইনকৃত ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা হাঁপানিয়া সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে(শূন্য) রেখায় অবস্থান করছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরে ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে ভারতীয় ভূখন্ডে পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

কামারখন্দে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গাঁজা সেবন ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রায়দৌলতপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন।
অভিযানে উপজেলার রায়দৌলতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আল আমিন ভুইয়া (২৭), পিতা- আদেল উদ্দিন ভুইয়াকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
কামারখন্দ থানা পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

বিজেপিকে বিদায় জানালেন তামিলনাড়ুর ‘সিংহাম’ আন্নামালাই

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতির পরিচিত মুখ ও সিংহাম খ্যাত কে আন্নামালাই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। দল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল তিনি কি আগে বিজেপির সদস্য, নাকি একজন তামিল?

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) এক বক্তব্যে আন্নামালাই বলেন, আমি ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর দলকে জানিয়েছিলাম যে পদত্যাগ করতে চাই। তখন আমাকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।

 

 

এরই মধ্যে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এক বিবৃতিতে দল জানিয়েছে, তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

দল ছাড়ার পর আন্নামালাই বলেন, ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে দলের সঙ্গে থাকাকালেও কখনো তামিলনাড়ুর স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয়ের বিষয়ে আপস করেননি।

তিনি দাবি করেন, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে দলের কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তার অসন্তোষ ছিল।

 

তরুণদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্নামালাই বলেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সময় এসেছে। এ জন্য নতুনদের একটি নিবন্ধন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

আন্নামালাই বলেন, আজ থেকে আমরা সাধারণ মানুষের রাজনীতির নতুন প্রজন্মের ভিত্তি গড়ে তুলছি।

 

 

একই সঙ্গে তামিলনাড়ুতে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

তবে আন্নামালাইয়ের পদত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রন। তিনি বলেন, দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।

 

 

পদত্যাগের আগে মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্নামালাই। দলীয় নেতৃত্ব তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

 

সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা আন্নামালাই তামিলনাড়ু বিজেপির সাবেক সভাপতি এবং রাজ্যের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ ছিলেন। তাকে তামিলনাড়ুর সিংহাম বলে অভিহিত করা হতো। তবে তিনি এখন স্বাধীন রাজনৈতিক পথ অনুসরণের বিষয়ে আগ্রহী।

 

কেন নেতৃত্ব হারালেন পন্ত? ব্যাখ্যা দিলেন কোচ গম্ভীর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে ভারতের টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কের পদ হারিয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্ত। তবে এ নিয়ে কোনো বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, ভারতের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, নেতৃত্বের পদ কেবল অতিরিক্ত বিষয়।

 

 

আজ নিউ চন্ডীগড়ে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ‘দায়িত্ব বলতে একটাই, ভারতের হয়ে খেলা। অধিনায়কত্ব বা সহ-অধিনায়কত্ব এসব পরের বিষয়। আমরা চাই পন্ত নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলুক।’

 

 

পন্তের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করতে চান না ভারত কোচ। তবে ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে খেলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

গম্ভীর বলেন, ‘ওকে আমরা কখনোই বলব না যে তার স্বাভাবিক খেলা বদলে ফেলতে হবে। তবে পরিস্থিতি বুঝে খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য একটাই, রান করা এবং ম্যাচে অবদান রাখা।’

এর আগে সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে জানান, নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও দলের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা রাখতে পারেন পন্ত। গম্ভীর ও পান্তের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

ডেসকাটে বলেন, ‘পন্ত বুঝতে পারে যে নেতৃত্ব দিতে হলে সবসময় কোনো পদবির প্রয়োজন হয় না। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবেও সে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

 

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পান্তের পারফরম্যান্স প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪০৮ রানের বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়া আইপিএল ২০২৬-এও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তার নেতৃত্বে লখনউ সুপার জায়ান্টস পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে শেষ করে, পরে অধিনায়কত্বও ছাড়েন পান্ত।

 

 

এদিকে তাকে ওয়ানডে দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আপাতত টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে ব্যাট হাতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভারতের এই তারকা ক্রিকেটার।

 

বেলকুচিতে সাংবাদিকদের সাথে বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি প্রার্থী লাবলুর মতবিনিময়

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সাংবাদিকদের সাথে কামারপাড়া চৌমহনী বাজার বণিক সমবায় সমিতির কার্যকারী পরিষদের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান লাবলু মতবিনিময় করেছেন।

 

 

শুক্রবার সকালে উপজেলার কামার পাড়া চৌমহনী বাজার বণিক সমবায় সমিতির সকল ব্যবসায়ী ও সদস্যবৃন্দর আয়োজনে এ মতবিনিময় হয়।

 

 

এ সময় বাজারের সকল ব্যবসায়ী ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

মতবিনিময় সভায় কামারপাড়া চৌমহনী বাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান লাবলু বলেন, আগামী ১৩ই জুন শনিবার বেলকুচি উপজেলার কামারপাড়া চৌমহনী বাজার বনিক সমবায় সমিতির কার্যকরী পরিষদের ত্রি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি কামারপাড়া ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠের দাতা সদস্য। আমি একজন সুতা ব্যবসায়ী আমার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সরকার ট্রেডার্স যাহা কামারপাড়া চৌমহনী বাজারে অবস্থিত। এছাড়াও আমি একজন দলিল লেখক এবং পর পর তিন বার বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি বেলকুচি শাখায় নির্বাচিত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি এবং বর্তমানে সভাপতি হিসাবে দায়িত্বরত আছি। আমি বণিক সমিতির তালিকা ভূক্ত ভোটার ও নিয়মিত সদস্য। আমি কামারপাড়া চৌমহনী বাজার ও বণিক সমিতিতে প্রতিষ্ঠা লগ্নে সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলাম এবং প্রায় ১০ বছর পূর্বে ২০০৪ সাল হইতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত কামারপাড়া চৌমহনী বাজারের ইজারাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং বাৎসরিক ইজারার সমস্ত টাকা পৌরসভার পরিশোধ করে বাকি টাকা কামারপাড়া বাজার মসজিদের কমিটির তহবিলে জমা প্রদান করি-যা মসজিদের উন্নয়ন খাতে ব্যায় হয়।আমি নির্বাচনে সভাপতি পদের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছি এবং আমার প্রতীক চেয়ার। বাজারের সকল ভোটার গণ – আমাকে যদি আপনারা আমার প্রতিক চেয়ার মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন তাহলে আমি সর্বপ্রথম বাজারে শান্তি এবং শৃঙ্খলার মান বজায় রেখে বাজারের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান সিরাজগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম মহাদয় বেলকুচি মানুষকে নিয়ে উনার ভবিষ্যত চিন্তা চেতনা অনেক। সংসদ সদস্যের সহিত আলোচনা ও তাহার সম্মতিক্রমে বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যথা-যথ চেষ্টার মাধ্যমে সকলের সহযোগীতায় কাজ করবো। যেহেতু এই বাজারটি পৌরসভার নিয়ন্ত্রনাধীন এবং পৌরসভা কর্তৃক ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয় সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশাসক / মেয়র মহোদয়ের নিকট বাজারের উন্নয়নের ক্ষেত্রে উনার সুদৃষ্টি ও উন্নয়নের সহযোগীতার ব্যপারে সকলে মিলে আবেদন করবো। আমি বাজারের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হলে বাজারের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বাজার সি.সি ক্যামেরার মাধমে নিয়ন্ত্রন করবো।বাজারের যাতে কোন প্রকার দূর্নীতি – চাঁদাবাজী এবং নেশা জাতীয় কোন দ্রব্য বিক্রি না হয় সেই ক্ষেত্রে আমার পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য সহ বাজারের আওতাধীন সম্মানিত ব্যাক্তি বর্গের সমন্বয়ে দূরী করনের জন্য কঠোর ভূমিকা রাখব এবং আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক সহযোগীতা নেব।

 

 

সর্বোপরি আপনাদের সকলের দোয়া সহযোগীতা এবং আপনাদের মুল্যবান ভোটের মাধ্যমে আমাকে আমার প্রতিক চেয়ার মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানাই।

 

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাব-লেট সিদ্ধান্তে আলোচনায় রয়্যাল লজের কটেজ

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়্যাল লজের কটেজ ভাড়া দেওয়া নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অডিট অফিস (এনএও)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়্যাল লজের আওতাধীন কিছু কটেজ অন্যদের কাছে সাব-লেট দিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।

 

 

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানান, প্রতিবেদনের জন্য রাজপ্রাসাদ কৃতজ্ঞ। এটি রয়্যাল হাউসহোল্ডের স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিবেদনের তথ্য রাজকীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদ্যমান কিছু প্রশ্নের ব্যাখ্যা, সংশোধন ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে সহায়তা করবে।

 

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রয়্যাল হাউসহোল্ড পরিচালিত বিভিন্ন সম্পত্তির ক্ষেত্রে অবস্থান, ভাড়াটিয়া ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অন্যদিকে, ক্রাউন এস্টেটের এক মুখপাত্র বলেন, এনএওর পর্যালোচনা নিশ্চিত করেছে যে রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা লিজ চুক্তিগুলো স্বাধীন পেশাদার পরামর্শ এবং বাজারমূল্যের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন ব্যারোনেস মার্গারেট হজ বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অ্যান্ড্রু কত অর্থ উপার্জন করেছিলেন তা এনএও নির্ধারণ করতে না পারা ‘বিস্ময়কর’।

 

এছাড়া প্রিন্সেস বিট্রিস, প্রিন্সেস ইউজেনি এবং প্রিন্সেস মাইকেল অব কেন্টের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

ব্যারোনেস হজ প্রশ্ন তুলে বলেন, যেসব রাজপরিবারের সদস্য সরকারি দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের কি করদাতাদের অর্থ থেকে ভর্তুকি দেওয়া সমীচীন?

 

 

তিনি আরও বলেন, ক্রাউন এস্টেটের সম্পদ মূলত করদাতাদের সম্পদ। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই এর ব্যবস্থাপনায় সর্বদা করদাতাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

পাঁচ মাসে কুমিল্লায় এইডসে ৭ মৃত্যু, আক্রান্তের বেশিরভাগ সমকামী

 

এইডসে আক্রান্ত হয়ে গত ৫ মাসে (চলতি বছর) কুমিল্লায় সাতজন মারা গেছেন। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩৭ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশ সমকামী-পুরুষ যৌনকর্মী। পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী।

 

 

 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্রে এ তথ্য মিলেছে।

 

 

 

সেন্টারটির কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, সর্বশেষ মে মাসের ২৫ তারিখ মারা যান ২১ বছর বয়সী এক বিবাহিত যুবক। ১৩ মে মারা যান ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ৮ মে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী একজন। তারা তিনজনই কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা।

তিনি জানান, এ নিয়ে ২০২৬ সালে কুমিল্লা জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২ জন, মার্চ মাসে ১ জন, এপ্রিল মাসে ১ জন ও মে মাসে ৩ জন মারা যান।

 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় বর্তমানে ৩৮৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুমেক এআরটি সেন্টারে চলতি বছর ৬৭২ জনের স্যাম্পল পরীক্ষায় ৩৭ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন টিবি ও এইচআইভি দুটিতেই আক্রান্ত।

 

 

যারা আক্রান্ত বা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ (সমকামী) যৌন সম্পর্কিত, ৩ জন সংক্রমিত হয়েছেন বিবাহিত সম্পর্ক থেকে এবং ২ জন বিদেশে থাকা অবস্থায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে আরও আছেন নারী যৌন কর্মী দ্বারা ১ জন এবং দুইজন সাধারণ মানুষ। বাকি ৬ জন আক্রান্তের অধিকাংশও সমকামী। গত দুই মাসে তারা শনাক্ত হয়েছেন। তথ্যভান্ডারে এখনো তাদের প্রকৃতি প্রকাশ করা হয়নি। নিয়মানুযায়ী সবারই নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

 

 

 

২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমেকে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি টেস্টে ২৭৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত। বর্তমানে চিকিৎসা নিতে থাকা রোগীর সংখ্যা ৬১৫ জন। ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৪৬ জন মারা গেছেন। চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছেন ১৩ জন।

 

 

 

পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। কুমিল্লা এআরটিতে ২০১৯ সালের ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫টি পজিটিভ, ২০২০ সালে ৩১১টি পরীক্ষায় ৮টি পজিটিভ, ২০২১ সালে ৪৯৮টি পরীক্ষায় ১৪টি পজিটিভ, ২০২২ সালে ৭৮৬টি পরীক্ষায় ২১টি পজিটিভ, ২০২৩ সালে ১২৩০টি পরীক্ষায় ৪৮ জন পজিটিভ, ২০২৪ সালে ১৪৮১টি পরীক্ষায় ৫৮ জন পজিটিভ, ২০২৫ সালে ১৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২টি পজিটিভ এবং ২০২৬ সালের ৫ মাসেই ৬৭২টি পরীক্ষায় ৩৭টি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

 

 

দৌলতদিয়ায় পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সবাই

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বাসে থাকা চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে। 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বাসটি পন্টুনে ওঠার আগেই সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

 

 

ঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এস বি পরিবহন’ এর একটি বাস সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে এসে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতির সময় বাসটি হঠাৎ পন্টুন থেকে ছিটকে তীব্র স্রোতের পদ্মা নদীতে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।

 

 

এসময় বাসে ছিলেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার।

 

 

 

বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও ঘাট শ্রমিকরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। 

 

 

 

বাসের চালক এবং তার সহযোগীদের (হেল্পার ও সুপারভাইজার) স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। 

 

 

আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

 

 

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস বি পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৭ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত পন্টুনে পৌঁছানোর আগেই বাসের সব যাত্রী নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো যাত্রী বাসের ভেতর ছিলেন না। 

 

 

 

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহায়তায় চালক ও তার সহকারীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

 

 

 

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

 

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের যৌথ দল নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পানি থেকে তোলা হয়েছে। তবে পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। 

 

 

 

পন্টুন থেকে বারবার এভাবে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

 

 

মাত্র দুই মাস আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামে একটি বাস নদীতে পড়ে যায়, যাতে ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান। একের পর এক এমন দুর্ঘটনার জন্য ঘাটের পন্টুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
ফেরিঘাটে যানবাহনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঘাট ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ। 

 

 

চোটের কারণে খেলতে পারবেন না নেইমার

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে শনিবার (৬ জুন) মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামছেন না তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। তার কাফ মাসলের চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তিনি।

 

 

 

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, চোটের কারণে নেইমার দলের সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না। তিনি নিউ জার্সির ট্রেনিং ক্যাম্পে থেকেই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চালিয়ে যাবেন।

 

 

 

৩৪ বছর বয়সী নেইমার পুরো মৌসুমজুড়েই চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করায় বিষয়টি নিয়ে আগেই আলোচনা চলছিল।

বিশ্বকাপের আগে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। সেখানে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে পড়েছে সেলেসাও শিবির।

 

আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

 

 

নেইমারের চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

 

তেল-গ্যাসের পর বিদ্যুতে বাড়তি ব্যয়

মধ্য ও নিম্নবিত্তের খরচের চাপ আরও বাড়বে

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই চিড়েচ্যাপ্টা দশা সাধারণ মানুষের। নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি ধাপে খরচ শুধু বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তার প্রভাবে দেশে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) পেছনে খরচও আগের চেয়ে অনেকখানি বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা এক এক করে কৃষি, পণ্য সংরক্ষণ, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাতে খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুরেফিরে ভোক্তার কাঁধে এসে পড়ে। বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নবিত্তদের ওপর চাপ অনেক হারে বেড়ে যায়। তাদের টিকে থাকাকে আরও কঠিন করে তোলে।

 

 

 

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব বলছে, গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মার্চ মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। মার্চের চেয়ে এপ্রিলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দুটোই বেড়েছে। এপ্রিলে যা যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৯ ও ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, সব ধরনের পণ্যের পেছনে খরচের চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় এ চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

বাজার বিশ্লেষক ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান কালবেলাকে বলেন, জীবনযাত্রার খরচের চাপে মানুষ ভালো নেই। এর মধ্যে যারা নির্দিষ্ট আয়ের (ফিক্সড ইনকাম) বা পেনশনের টাকায় চলেন, তারা খুব সংকটে রয়েছেন। পাশাপাশি খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও দরিদ্রদের ওপরও মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি। মধ্যবিত্তরাও এখন এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তাদের টিকে থাকতে ঋণ বাড়ছে। পুরোনো ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। অনেকে ঘর ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তারা সংসার খরচে কাটছাঁট করছেন। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। বর্তমান সরকার বলেছিল বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু সেটা তো হলো না।

 

সাবেক এ বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ল। স্বাভাবিকভাবেই বাজার ও অর্থনীতিতে এর ‘রিপল ইফেক্ট’ (ছড়িয়ে পড়া) পড়বে। এটা উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দেবে, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ও প্রক্রিয়াজাতে ব্যয় বাড়তে পারে, শিল্প খাতসহ পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার খরচের চাপ বাড়বে। সেইসঙ্গে ঋণের বোঝাও বাড়বে। মূল্যস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে। গত বুধবার রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন। যদিও গতকাল বৃহস্পতিবার তা আংশিক সংশোধন করে আবাসিক খাতে দুই শ্রেণির গ্রাহকের জন্য আগের দাম নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে এ সংশোধন করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন শ্রেণি এবং প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর জন্য আগের দাম পুনর্বহাল করতে বিতরণ সংস্থাগুলো আবেদন বিবেচনায় নিয়ে এ দুই শ্রেণির জন্য আগের দাম বহাল রাখা হয়েছে।

 

 

 

এদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে নীতিগত ব্যর্থতা দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম। কালবেলাকে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ না করে সাধারণ জনগণের ওপর দামের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ খাতে অন্যায়ভাবে যে ঘাটতি বেড়েছে, ব্যয় বেড়েছে, মুনাফা বেড়েছে, এখান থেকে টাকা আত্মসাৎ হয়েছে; সেসব জায়গা থেকে ‘প্রটেক্ট’ না করে, কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। মানে, সহজ পথে হেঁটেছে সরকার। আগে এ খাতের অনিয়মগুলো দূর করতে হবে।

 

 

 

ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, এর প্রভাব খাদ্য থেকে শুরু করে কৃষি, উৎপাদন, পণ্যমূল্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ে পড়বে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে এবং মানুষের ভোগ ব্যয় কমবে, পণ্য ও সেবা ক্রয় কমবে। সার্বিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রা সংকুচিত হবে। সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার যে কথা বলছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কৌশলগত পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

 

 

 

গত ৩১ মে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে গত মার্চ থেকে চলতি জুন সময়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ওঠানামা করে সর্বশেষ ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় ঠেকেছে। মার্চে যা ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ, সিলিন্ডারের পেছনে ভোক্তার ব্যয় ৫৪৪ টাকা বা ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

 

 

 

 

বাজার, যাতায়াত, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি ব্যয়ের মাঝে রান্নার গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে বেসরকারি চাকরিজীবী মো. জসিব উদ্দিনের। রাজধানীর কালশী এলাকার বাসিন্দা এ ব্যক্তি কালবেলাকে বলেন, ‘প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট বেতনের টাকায় সংসার চালাতে হয়, তা দিয়ে বাসা ভাড়া, যাতায়াত ও বাজারের খরচ সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হয়। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ছে। সিলিন্ডার গ্যাসের পেছনে খরচ অত্যধিক বেড়েছে। আবার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়। এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ায় আরও কত খরচ জানি বেড়ে যাবে। কিন্তু বেতন তো সেভাবে বাড়ে না। ওদিকে ঋণ পরিশোধেরও চাপ রয়েছে। কোন খরচ বাদ দিয়ে কোনটা সামাল দেব—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটে।’

 

 

 

 

টিকে থাকতে সংসারের অনেক খরচ বাদ দিয়েছেন কদমতলী এলাকার অটোরিকশা চালক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মাছ-মাংস খাওয়া প্রায় বাদ দিছি। পরনের কাপড় কেনা কমাইছি। বিয়া-সাদির অনুষ্ঠানেও যাই না। আর কত কাটছাঁট করা যায়। আগে দূরের ট্রিপ দিলে বাইরে খাইতাম। খরচ বাচাইতে এখন তাও খাই না।’

 

 

 

এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের মালিকরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়ছে। এর প্রভাব খাবারের দামে পড়তে পারে।

 

 

 

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান কালবেলাকে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়লে রেস্তোরাঁগুলোয় খাবার প্রস্তুতেও খরচ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা এ বাড়তি ব্যয় কোথা থেকে সামাল দেবেন। ফলে খাবারের দামেও প্রভাব পড়ে। কিন্তু আমরা দাম সেভাবে বাড়াতেও পারি না। কারণ, দাম বাড়ালে গ্রাহক হারাতে হয়। এমনিতেই মানুষ এখন বাইরে খাওয়া কমিয়েছে। গ্রাহক কম পাচ্ছি। সেখানে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সংকট আরও বাড়বে।

 

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

নওগাঁয় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ

 

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নওগাঁ জেলা শাখার সদস্য সচিবসহ দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে আগামী ৩কার্য দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতেও বলা হয়েছে ওই নোটিশে।
বৃহস্পতিবার (৪জুন) দিবাগত রাতে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ তথ্য জানানো হয়।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন, খন্দকার তারিকুল ইসলাম দিপু। তিনি এনসিপির নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। এবং অপরজন দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ। তিনি দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরত্বর একটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। কাজেই উল্লিখিত বিষয়ে কেন আপনাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে এই নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বরাবর লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এদিকে নোটিশে শোকজের সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও এনসিপির নওগাঁ জেলার এক কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে শুক্রবার ৫জুন সকালে বিষয় নিশ্চিত করেছেন সদ্য শোকজ হওয়া দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ।
এনসিপি নেতা সোহাগ বলেন, ‘আমাকে ঠিক কী কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আমি অবগত নই। তবে ধারণা করছি, এনসিপি-র নওগাঁ জেলার একজন কেন্দ্রীয় নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে রেখে উনার পছন্দের কোনো ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার উদ্দেশ্যেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ​এর আগে গণভোট প্রচারণার ক্ষেত্রেও ওই নেতার ব্যক্তিগত পছন্দের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে নওগাঁয় গণভোট প্রচারণা স্থবির হয়ে পড়েছিল। আমি বরাবরই যোগ্যদের অবমূল্যায়ন এবং অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসার তীব্র বিরোধিতা করে আসছি। মূলত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আমি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছি। যেহেতু চাঁদাবাজি বা মামলা-বাণিজ্যের মতো কোনো অনৈতিক ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের সাথে আমি জড়িত ছিলাম না, তাই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আমাকে শোকজ করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি দেখছি না।’
সোহাগ আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকেই জেলা সংগঠকের দায়িত্বে ছিলাম আমি এবং দীপু। আমরাই পুরো নওগাঁর এনসিপিকে গুছিয়ে নিয়েছি। অথচ আজকে আমাদেরকেই শোকজ দেয়া হলো ব্যাক্তিগত আক্রোশ থেকে। তবে নওগাঁ জেলার কেন্দ্রীয় সেই নেতার নাম বলেননি তিনি।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেন হোসেনপুরের কৃতী সন্তান সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর প্রকাশিত এ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কিশোরগঞ্জ জেলার হাফ ডজনেরও বেশি নেতা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের কৃতী সন্তান ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন।
‎বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।
‎এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর সেই কমিটিকে সম্প্রসারণ করে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
‎রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
‎বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে রাজপথের নানা কর্মসূচিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আন্দোলন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, পরিশ্রম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তার মূল্যায়ন হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
‎কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আহমেদ শাহিন বলেন, “দল ও দেশের স্বার্থে আমি সবসময় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে রাজপথে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।”
‎তিনি আরও বলেন, “ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে। আমি বিশ্বাস করি, নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে যুবদল আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করবে।”
‎যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কিশোরগঞ্জের একাধিক নেতার অন্তর্ভুক্তিকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
‎কমিটি ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নবনির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও শুভেচ্ছা বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
‎কেন্দ্রীয় কমিটিতে শাহিনের অন্তর্ভুক্তির খবর প্রকাশের পর হোসেনপুরসহ কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।
‎দলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

যমুনা সেতুতে একদিনে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা টোল আদায়

 

ঈদের সরকারি ছুটি চারদিন আগে শেষ হলেও পোষাককর্মীদের ছুটি শেষ হয় বৃহস্পতিবার থেকে। রাত থেকেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের পোষাককর্মীরা। যে কারণে যমুনা সেতুতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ।

 

 

 

গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর উপর দিয়ে পার হয়েঠে ৪৩ হাজারেরও বেশি গাড়ী, টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও যমুনা সেতুর উপর বেশ কয়েকটি গাড়ী বিকল হয়ে পড়ায় সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৪৩ হাজার ৯০৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫০ টাকা।

 

 

 

এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ১৯ হাজার ৫৩৮টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ২৪ হাজার ৩৭১টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৫০ টাকা।

 

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, যার ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এরমধ্যে ভোররাতে যমুনা সেতুর ওপর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে একটি বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো বিকল হয়ে পুরো লেনটি অবরুদ্ধ (ব্লক) হয়ে পড়ে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী দূরপাল্লার একাধিক ত্রুটিপূর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস বিকল হয়ে পড়ে। ফলে উভয় লেনেই যানজট সৃষ্টি হয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

 

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম র ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ যানজট রয়েছে।

 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক তপন কুমার সূত্রধর জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট রয়েছে। যানজট নিরসনে উত্তরবঙ্গগামী লেন বন্ধ করে উভয় লেন দিয়ে ঢাকামুখী গাড়ী পার করা হচ্ছে।

 

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসকর্মীরা কর্মস্থলে ফিরছেন। যার ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। ভোররাতে যমুনা সেতুর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিকল হয়ে পুরো লেন ব্লক হয়ে যায়। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী রিজার্ভ নেওয়া লোকাল লক্কর-ঝক্কর একাধিক গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। এসব কারণে উভয় লেনেই যানজটের সূত্রপাত হয়। রেকার দিয়ে বিকল হওয়া পরিবহণ অপসারণ করার ফাঁকেই যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। আমরা যানজট নিরসনে রাত থেকেই কাজ করছি। আশা করছি দ্রুতই যানজট নিরসন হবে।

 

 

 

আবারও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ল

রাজবাড়ীর দৌলত‌দিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে এসবি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এসময় চালক ও সহকারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুনে এই ঘটনা ঘটে।

 

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

 

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস থেকে যাত্রী নামানো অবস্থায় ছিল বলে মনে হচ্ছে।

 

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

 

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

 

গজারিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৯:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া উপজেলায় পৃথক মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ১৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকস টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের একপর্যায়ে দক্ষিণ ফুলদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫২ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— শাহাদাত হোসেন (৩৯), পিতা: আব্দুল বাসেত; মাহিন (২৪), পিতা: মো. মিজান; এবং মেহেদী হাসান রনি (২৫), পিতা: জহিরুল ইসলাম। তারা সবাই দক্ষিণ ফুলদী এলাকার বাসিন্দা।
অপরদিকে, গোয়ালগাঁও এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১০০ পিস ইয়াবাসহ রোমান ওরফে হোমা (২৪) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তার পিতা শহর উদ্দিন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। তারা গজারিয়াকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

রায়গঞ্জে চায়না-৩ লিচুর আকাশছোঁয়া দাম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মৌসুমি ফল লিচুর বাজারে এবার দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বাগান থেকে শুরু করে খুচরা বাজার—সব জায়গাতেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লিচু। বিশেষ করে জনপ্রিয় ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই জাতের লিচু পিসপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
ফলন কম ও চাহিদা বেশি থাকায় চায়না-৩ লিচুর দাম এবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চায়না-৩ জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর সরবরাহও বেড়েছে। তবে এসব জাতের দাম তুলনামূলক কম। বোম্বাই ও মাদ্রাজি লিচু প্রতি ১০০টি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেদানা ও কাঠালি জাতের লিচুর চাহিদা কম থাকায় প্রতি ১০০টির দাম ২২০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে লিচুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের চায়না-৩ জাতের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।
ব্যবসায়ীরা জানান, আকারে বড়, আকর্ষণীয় রং এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে এ বছর ফলন কম হওয়ায় বাজারে এই জাতের লিচুর সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
লিচুর বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একসময় যে মৌসুমি ফল সহজেই কেনা যেত, এখন তা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় গৃহিণী সাবিনা বলেন, “একসময় অতিথি আপ্যায়নে লিচু রাখা স্বাভাবিক ছিল। এখন ১০০ লিচুর দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় চাপ।”
অটোরিকশাচালক সুইট বলেন, “বাচ্চারা লিচু খেতে চায়, কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হয়। নিত্যপণ্যের খরচ সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে।”
মধ্যবিত্ত ক্রেতা হাসেমের ভাষ্য, “আগে মৌসুমে অন্তত এক-দু’শ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত। এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কষ্টের।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিজীবী বলেন, “ফলন কমেছে, এটা ঠিক। কিন্তু প্রতি পিস ৭-৮ টাকা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল হক জানান, উপজেলায় প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে চায়না-৩ জাতের লিচুর ফলন আশানুরূপ হয়নি। তবে অন্যান্য জাতের লিচুর উৎপাদন ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, “চায়না-৩ লিচুর ফলন কম হওয়ায় এর বাজারমূল্য বেড়েছে।
অন্যদিকে অন্যান্য জাতের ফলন ভালো হলেও অনেক কৃষক গত বছরের তুলনায় কম দাম পেয়েছেন। প্রতিবছরই রায়গঞ্জে লিচুর আবাদ বাড়ছে, যা এ অঞ্চলের কৃষির জন্য ইতিবাচক দিক।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ুগত পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মৌসুমি ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয় এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দামের ওপর।
রায়গঞ্জের লিচুর বাজারেও এবার সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই লিচুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের মধ্যেআলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বেলকুচিতে বিকল অটোভ্যানকে চাপা দিল বাস, স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের মেয়ে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার মৃত বাছের সরকারের ছেলে মো. মোতালেব সরকার (৪০), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) ও জামতৈল গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যানের চালক মো. নুরু (৪৫)।

 

আহত তামান্না খাতুন (১৬) মোতালেব সরকারের মেয়ে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেঘুল্লা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে এনায়েতপুরগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহণের দ্রুতগামী একটি বাস বিকল হওয়া ভ্যানটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গুরুতর আহত হন তামান্না খাতুন।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। আহত তামান্নাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশংকাজনক।

 

তিনি বলেন, বাসটিকে আটক করা হলেও এর চালক-হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

বেলকুচিতে বাসচাপায় তিন অটোভ্যানযাত্রী নিহত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় তিন অটোভ্যানযাত্রী নিহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

বিস্তারিত আসছে……

 

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ: পদত্যাগ করলেন সিআইডি প্রধান

পদোন্নতি বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর তিনি এ আবেদনপত্র দাখিল করেন।

 

বৃহস্পতিবার পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়। যাদের মধ্যে দুজন আলী আকবর খানের ব্যাচের (১৫তম) এবং তিনজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। সেই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় আলী আকবর খানের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় তিনি পিআরএলের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

 

 

আবেদনপত্রে আলী আকবর খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

 

আবেদনে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণেই তিনি পুনরায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পদোন্নতির তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন। তাই নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে তিনি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি।

 

আবেদন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে তার এ অবসর কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) মঞ্জুরের জন্যও আবেদন করেছেন এই কর্মকর্তা।

 

অন্যদিকে একই দিন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

পত্রে বলা হয়, আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং ২ জুলাই ২০২৬ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সূত্র: কালবেলা

 

আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং করেন হান্নান মাসউদ

এমপি হতে হান্নান মাসউদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কারা শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন শুরু করে?’

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

 

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, ৭ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে হান্নান মাসউদ। ৭ আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেইলি রোডের কেএফসিতে হাতিয়ার আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয় মাসুদের। সেখানে এই ছবির কয়েকজনসহ আরও উপস্থিত ছিলেন, জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাতিজা রাজু। ৭ আগস্টের পরে ১২ এবং ১৫ আগস্টেও বাংলামোটরের ওয়াটারফল রেস্টুরেন্টে মিটিং হয়। এই ছবিটি ২২ আগস্ট হোটেল ফার্সে তোলা।

 

ছবিতে আছেন, (১) আব্দুল হালিম আজাদ ওরফে পিচ্চি আজাদ, চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি; (২) নুরুল ইসলাম মালয়েশিয়া, সোনাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের সভাপতি; (৩) মেরাজ উদ্দিন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান; (৪) আলাউদ্দিন বাবু, তমরদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক; (৫) যুবলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন রতন প্রমুখ।

 

এসব মিটিংয়ের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, কীভাবে হান্নান মাসউদ হাতিয়ার এমপি হবে। অর্থাৎ শহীদের রক্ত শুকানোর আগেই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের হাত ধরে এমপি হওয়ার বন্দোবস্ত শুরু হয়। এবার আমারে কন, কারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন শুরু করে?

 

তীব্র তাপমাত্রা কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

রাজধানীসহ সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েছে। ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়েছে পড়েছেন অনেকে। শুক্রবার (৫ জুন) থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর।

 

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকাসহ দেশের ৪৮টি জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে একসঙ্গে এতগুলো জেলায় তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটলেও এবার বর্ষা আসতে দেরি হওয়ায় গরমের তীব্রতা ও বিস্তৃতি দুটোই বেড়েছে।

 

তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, ‘এখন জ্যৈষ্ঠ মাস শেষপর্যায়ে। মৌসুমি বায়ু আসার আগ পর্যন্ত এই সময়ে সবচেয়ে বেশি গরম থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে আসার কারণে এতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বা ময়েশ্চার রয়েছে। বাতাসে ময়েশ্চার বেশি থাকলে তা তাপ ধরে রাখে, ফলে চারপাশের বাতাস বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ময়েশ্চার বেশি হওয়ায় শরীর থেকে ঘাম শুকাচ্ছে না, যা চরম অস্বস্তি তৈরি করছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘শারীরিক অস্বস্তির আরেকটি বড় কারণ হলো দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়া। গত রাতে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত রাতের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির নিচে থাকলে মানুষ আরাম বোধ করে। কিন্তু এখন রাত শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় গরম শুরু হয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষের শরীর ঠান্ডা হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।’

 

নরসিংদী মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার-১

নরসিংদীর মাধবদীতে কর্মস্থল হতে ফেরার পথে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ এবং পরে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে মোশাররফ ও মাহবুব নামের দুই যুবকের বিরদ্ধে।

 

 

 

বুধবার (০৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলাণপুর গ্রামে অভিযুক্ত মাহবুবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

 

 

 

অভিযুক্তরা হলেন মেহেরপাড়া এলাকার পৌলাণপুর গ্রামের মৃত মোতালেব মেম্বারের ছেলে মোশাররফ হোসেন (৩০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে মাহবুব। এরমধ্যে মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন।

 

 

টেক্সটাইল শ্রমিক ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, বুধবার রাতে চৈতাব এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে পৌলাণপুর গ্রামের মোশাররফ ও মাহবুব নামের দুই যুবক তাকে জোর করে মাহবুবের পৌলাণপুরের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কক্ষে তার ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেওয়া হয়—এ বিষয়ে কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এসময় ভিডিও ভাইরালের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে যুবকরা দুই হাজার টাকা আদায় করে।

 

 

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে তারা দুই হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি রাতেই মাধবদী থানায় জানান।

 

 

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে পৌলাণপুর গ্রামের মোশাররফ ও মাহবুব এর নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে এবং সকালে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে মাহবুব নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপরজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

 

বিশ্বকাপ ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী জানিয়ে চমকে দিল হাঙর ‘রিতিনিয়া’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় এসেছে এক হাঙর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো অ্যাকুয়ারিয়ামের হাঙর ‘রিতিনিয়া’ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে সেলেসাওদের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে রীতিমতো চমকে দিয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের।

 

 

 

বুধবার (৩ জুন) রিও ডি জেনেইরো অ্যাকুয়ারিয়ামে বিশেষ এক আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার লড়াইয়ের সম্ভাব্য ফলাফল অনুমান করা হয়। এ সময় হাঙর রিতিনিয়ার সামনে দুই দলের প্রতীকসংবলিত বিকল্প রাখা হলে সেটি ব্রাজিলের প্রতীক বেছে নেয়। বিশ্বকাপে ব্রাজিল তাদের অভিযান শুরু করবে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। শক্তিশালী আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

 

ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রাণীদের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণীর বিষয়টি নতুন নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিখ্যাত অক্টোপাস ‘পল’ একাধিক ম্যাচের সঠিক ফলাফল অনুমান করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই এবার রিও অ্যাকুয়ারিয়ামে হাঙর রিতিনিয়াকে নিয়ে এই আয়োজন করা হয়। তবে রিতিনহার ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত কতটা সত্যি হবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।

 

 

শুধু দাম বাড়িয়ে জনতার ওপরে বোঝা চাপানো যাবে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘সরকার বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়িয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে নীতি দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার দায় জনগণের ওপরে চাপানো যাবে না।’

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সরকার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েক দফা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ গত মার্চের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। দাম বৃদ্ধি তাদের হতাশ করেছে। মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের নীতি ভ্রষ্টতা, দুর্নীতি ও স্বার্থ-বিরুদ্ধ চুক্তি দ্রুত পর্যালোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু দাম বাড়িয়ে জনতার ওপরে বোঝা চাপানো যাবে না।’

 

কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ, ছেলে পলাতক

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাকে হত্যার পর নিজ ঘরের মেঝেতে মরদেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মেঝে খুঁড়ে গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত ছেলে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

 

 

 

ঘটনাটি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ঘটেছে। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত তার ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০)।

 

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুনের পর থেকে মারুফা বেগমকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বুধবার বিকেলে নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়ার স্ত্রী ঘরের বিছানার তোষক সরানোর সময় রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের জানানো হলে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

একপর্যায়ে জুয়েল মিয়ার শয়নকক্ষের মেঝের একটি অংশ সম্প্রতি খোঁড়া হয়েছে বলে মনে হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতেই মেঝে খনন করে একটি গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি মারুফা বেগমের বলে শনাক্ত করা হয়।

 

 

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহতের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর ঘটনাটি গোপন রাখতে মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।

 

 

 

বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জুয়েল মিয়ার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

মাজারের দানবাক্স খুলে চমকে গেলেন কর্তৃপক্ষ, মিলল ৩৪ লাখ টাকা

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারের ১৫টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।

 

 

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে ২৫ শিক্ষার্থীর সহায়তায় অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিনে গণনা শেষ না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে পুনরায় গণনা শুরু করা হয়। বিকেলে গণনা শেষে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

 

 

গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল জানান, দুই দিনব্যাপী গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে মোট প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে অর্থ মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

মাজার কমিটির সদস্যরা জানান, এবার দানবাক্সের সংখ্যা বেশি থাকায় আগের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দীর্ঘ সময় পর খোলা ১৫টি লোহার সিন্দুক টাকা, পয়সা, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের দেওয়া স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকারে পরিপূর্ণ ছিল। দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ প্রথমে বস্তাবন্দি করে মাজার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তা গণনা করা হয়।

দানবাক্সের অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া তাদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এমন কাজে দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে এ অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে তারা মনে করেন।

 

 

এর আগে প্রায় তিন মাস আগে খোলা পাঁচটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। মাজার কর্তৃপক্ষের মতে, বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওরস মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হওয়ায় এবার দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী মাজারে আসেন এবং দান করেন। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাজারের উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।

 

নাবিল গ্রুপে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ, বেতন ৩৫ হাজার পর্যন্ত

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি দিচ্ছে শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাবিল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও)’ পদে ২০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

প্রতিষ্ঠানের নাম: নাবিল গ্রুপ

বিভাগের নাম: সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং

পদের নাম: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও)

পদসংখ্যা: ২০ জন

 

চাকরির ধরন: বেসরকারি, ফুল টাইম

 

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিএ অথবা স্নাতক/সমমান

 

অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

 

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা: ৩৫,০০০ টাকা

 

বয়সসীমা: ২৩ – ৩০ বছর

 

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

 

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

আবেদন শুরু: ৪ জুন ২০২৬

 

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ জুন ২০২৬

 

সরকারি মালামাল আত্মসাতের পর চুরির নাটক, তদন্তে প্রশাসন

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি, চোর চিহ্নিত এবং সে মালামাল জব্দ হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে মামলা করেননি এ কর্মকর্তা।

 

 

এদিকে আদালতের অনুমতি ছাড়া কেবল মুচলেকা নিয়ে উদ্ধার হওয়া মালামাল থানা থেকে ফেরত আনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মালামালগুলো অভিযুক্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম নিজেই বিক্রি করে চুরির নাটক সাজিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত ২০ লিটারের ১১০টি বালতি ও ১১০টি ঢাকনা, ১০ লিটারের ২৯০টি জেরিকেন, ৪টি সিলিং ফ্যান, চার শতাধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও চার শতাধিক ন্যাপকিনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল গায়েব হয়ে যায়।

চুরির ১৪ দিন পর, গত ১ মে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।

সেই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রৌমারী বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, আব্দুল মালেক, শহিদুর রহমান, মনজুর আলম ও প্রদীপ চন্দ্রের দোকান থেকে বালতি, জেরিকেন ও কিছু টুল জব্দ করে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন— মালামাল চুরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়নি? বাজারে প্রকাশ্যে দোকানে ইউনিসেফের লোগো সংবলিত সরকারি মালামাল ধরা পড়ার পরই কেন কেবল জিডি করা হলো?

 

 

এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না করে, মুচলেকার মাধ্যমে থানা থেকে মালামাল ফেরত আনা হলো কার স্বার্থে?

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নিজেই এসব মালামাল বিক্রি করেছিলেন। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চুরির নাটক সাজান। অবশেষে চুরির ঘটনা ঢাকতে না পেরে লোকদেখানো জিডি করেন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করে মালামাল ফেরত এনে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

 

মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেছে।’

 

 

সাংবাদিকদের জিডির কপি দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে যে নির্দেশনা দেবেন, আমি তাই পালন করতে বাধ্য। আপনারা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন।’

 

 

তবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমি তো মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। সে কেন মামলা করল না, তা আমি তার কাছে জেনে জানাব।’

 

 

এদিকে বৃহস্পতিবার থানা থেকে ফেরত আনা মালামালের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি একপর্যায়ে তিনি দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের বাধার মুখে তিনি ব্যর্থ হন।

 

 

আদালতের অনুমতি ছাড়া উদ্ধার হওয়া চুরির মালামাল এভাবে ফেরত দেওয়া যায় কি না— জানতে চাইলে রৌমারী থানার ওসি মো. কাওসার আলী বলেন, ‘জিডিমূলে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ জব্দ করা মালামাল জিম্মায় ফেরত দিতে পারে।’

 

 

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চুরি যাওয়া মালামালের ব্যাপারে কেন মামলা করা হলো না, সেটি আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইব এবং বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’

 

 

মাত্র ২০০ টাকায় মাঠে বসে দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

আসন্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য টিকিটের মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে বিসিবি। সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে ওয়ানডে সিরিজের টিকিট। সর্বোচ্চ দাম ২৫০০ টাকা।

 

 

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিকিটের দাম প্রকাশ করেছে বিসিবি। সর্বনিম্ন ২০০ টাকাতে পাওয়া যাবে ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিট। একটু বেশি অর্থাৎ ৪০০ টাকা খরচ করলেই মিলবে নর্দার্ন গ্যালারি বা শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের টিকিট। ক্লাব হাউসের টিকিট কিনতে খরচ করতে হবে ৬০০ টাকা। ক্লাব হাউসের উত্তরের শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড এবং দক্ষিণের শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম একই, ৬০০ করে।

 

 

করপোরেট ব্লকে বসে খেলা দেখতে চাইলে আরেকটু বেশি টাকা খরচ করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ দক্ষিণ এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি দক্ষিণের টিকিট কিনতে খরচ করতে হবে ১৫০০ টাকা। এছাড়া মিডিয়া ব্লকের ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি উত্তরের টিকিট পাওয়া যাবে ১৫০০ টাকাতেই।

সবচেয়ে চড়া দাম গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের। আপার এবং লোয়ার দুই ক্ষেত্রেই গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ২৫০০ টাকা।

৯, ১১ এবং ১৪ জুন মাঠে গড়াবে সিরিজের তিন ওয়ানডে ম্যাচ।

 

শাকিবের নতুন লুক আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে মুগ্ধ মিম

ঢালিউডে যেন বইছে নতুন এক হাওয়া। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক রূপান্তরে চমকে দেওয়া সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়ে এবার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। শাকিবের সাম্প্রতিক ভোলবদল, পর্দাজুড়ে নতুন নতুন লুক আর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে মুগ্ধ এই নায়িকা। শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি, ইঙ্গিত দিয়েছেন ভবিষ্যতে আবারও বড় পর্দায় এই বদলে যাওয়া তারকার সঙ্গে জুটি বাঁধার সম্ভাবনারও।

 

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খানের বর্তমান লুক ও কাজের পরিবর্তনের প্রশংসা করে মিম বলেন, ‘এটা ভালো লাগছে। দিন দিনি উনি নিজেকে পরিবর্তন করছেন।’

 

 

শাকিব খানের ফ্যাশন ও লুক নিয়ে নিজের আগের ভাবনার কথা জানিয়ে এই নায়িকা আরও বলেন, ‘উনার সাথে যখন আমার কাজ হতো, আমি সবসময় চাইতাম যে, উনাকে যেন ভিন্ন ভিন্ন লুকে দেখা যায়। সেটা মেইনটেইন করছেন এখন। আমাদের দেখতেও ভালো লাগছে তাকে।’ বিগত কয়েক বছরে পর্দায় শাকিব খানের এই বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি দর্শকের পাশাপাশি মিমকেও দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। শাকিবের সঙ্গে আগামীতে আবারও রূপালি পর্দায় স্ক্রিন শেয়ার করার সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে মিম বেশ ইতিবাচক সাড়া দেন।

মিম জানান, শাকিব খানের সঙ্গে পুনরায় কাজের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো নেই তার। যদি ব্যাটে-বলে সুন্দর কোনো প্রজেক্ট মিলে যায়, তবেই দেখা মিলবে এই জুটির। তার কথায়, ‘যদি কখনও ঠিকঠাক সবকিছু মনে হয়, প্রজেক্ট আসে, সো তখন হয়তো করা হবে।’

উল্লেখ্য, শাকিব খান ও বিদ্যা সিনহা মিম জুটি বেঁধে অতীতে বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এই সিনেমাটি ছিল এই তারকা জুটির সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার হিট। পাশাপাশি খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত ‘জোনাকির আলো’, উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘আমি নেতা হবো’ সিনেমাতেও জুটি বেঁধেছিলেন।

 

উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন দুলু

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রয়োজন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টায় ঐতিহ্যবাহী নাটোর প্রেস ক্লাবের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

হুইপ দুলু বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম দেশের গণতন্ত্রের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের উচিত স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিত করা। সরকার এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। দেশে গণতন্ত্র সুসংহতকরণ ও উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে নাটোর প্রেস ক্লাব নির্মাণে অর্থসহ জায়গার বন্দোবস্ত করে দেন। ঐতিহ্যবাহী নাটোর প্রেস ক্লাব সুবর্ণজয়ন্তির পথ পরিক্রমায় রয়েছে। আগামীতে নাটোর প্রেস ক্লাবের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস বলেন, আমরা সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিপদে-আপদে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই, তাদের আর্থিক অবস্থানকে সুসংহত করতে চাই।

নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি যুগান্তর প্রতিনিধি মো. শহীদুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাংলাভিশন প্রতিনিধি কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

 

 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন— নাটোর জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলাম, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, এনসিপির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক রকিব উদ্দিন, ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি এস এম সেদরুল হুদা ডেভিড, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক টুকু, নাটোর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন ও রনেন রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার হায়দার যোসেফ ও স্থানীয় ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম প্রমুখ।

 

 

এ সময় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজহার আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আফতাব ও মোস্তাফিজুর রহমান শাহীনসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুলু নাটোরের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সব সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

 

 

শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধাশ্রমে বিধ্বংসী আগুন, ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

শ্রীলঙ্কার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাতজন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

 

 

পুলিশের তথ্যমতে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কালুতারা জেলার আঙ্গুরুওয়াতোতায় অবস্থিত মাউপিয়া সেভানা এল্ডারলি কেয়ার হোমে আগুনের সূত্রপাত হয়।

 

 

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের সবাই বৃদ্ধাশ্রমটির বাসিন্দা ছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে ৭০ জনের বেশি প্রবীণ বাসিন্দা অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ব্যক্তিমালিকানাধীন এই বৃদ্ধাশ্রমের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

আগুনের মধ্য থেকে মোট ৫১ বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহত সাতজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

 

 

হোরানা ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্মিণী বিদানাগামাগের তত্ত্বাবধানে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বিড়ালের দেহও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

পেস বোলিং কোচের পর ফিল্ডিং কোচও ছাড়ছেন দায়িত্ব

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে আজ পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাবেক অজি তারকা শন টেইট। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন জেমস প্যামেন্ট। যিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তবে গেল মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর দিন কয়েক আগেই পড়েছিলেন ইনজুরিতে। কোমরের চোটে এরপর থেকে বিশ্রামে রয়েছেন প্যামেন্ট। ফলে পাকিস্তানের পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও থাকছেন না এই ফিল্ডিং কোচ।

 

 

ইনজুরি সারতে বর্তমানে রিহ্যাভ চালিয়ে যাচ্ছেন প্যামেন্ট। কোমরের এই চোট থেকে সেরে উঠতে কতদিন সময় লাগবে সে বিষয়ে অনিশ্চিত। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এক বছরে তিনবার চোটে পড়ায় ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছেন না প্যামেন্ট। যদিও ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তি রয়েছে।

 

 

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্যামেন্টকে না পাওয়ায় ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির কোচ আশিক মজুমদার। সবশেষ পাকিস্তান সিরিজেও তিনি ফিল্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে সাদা বলের সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ৯, ১১ ও ১৪ জুন ঢাকার শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে চট্টগ্রামে যাবে উভয় দল। সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

 

বিশ্বকাপের অ্যালবামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব সঞ্জয়ের

বিশ্ব ফুটবলের মহামঞ্চে এবার আরও উজ্জ্বল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্সের ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই এলো নতুন সুখবর—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামেও জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়।

 

 

নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন সঞ্জয়। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘অনেক দিন ধরে এটার অপেক্ষায় ছিলাম। সান হোসেতে (ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর) দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে বড় হতে হতে দিনের পর দিন পার করেছি গান তৈরিতে। সবসময় স্বপ্ন দেখতাম, এমন কিছু গান বানানোর, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ও সাউন্ডট্র্যাকে জায়গা করে নেবে।’

 

 

নিজের এই অবিস্মরণীয় অর্জনকে উৎসর্গ করে সঞ্জয় আরও বলেন, ‘আজ অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি, আমি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল অ্যালবামের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। আমাদের তৈরি করা একটি গান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবের সাউন্ডট্র্যাক হতে যাচ্ছে, এটা ভাবতেই অন্যরকম লাগছে। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

এই সাফল্যকে কেবল নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না শিল্পী। তরুণদের অনুপ্রাণিত করে তিনি লেখেন, ‘এটি কেবল আমার একার জয় নয়। এটি সেই সমস্ত শিশুর জয়, যারা চার দেয়ালের ঘরে বসে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখার সাহস বুনে চলে।’

ফিফা বিশ্বকাপের এই বিশেষ অ্যালবামে সঞ্জয়ের গানটির শিরোনাম ‘সির সির’। গানটিতে তার সঙ্গে থাকছেন বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিম।

 

শিক্ষা খাতে নজিরবিহীন বরাদ্দের ইঙ্গিত: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মান উন্নয়নে আসছে বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এবারের বাজেটে জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশ বরাদ্দ চেয়েছিল মন্ত্রণালয়৷ সে চাওয়া অনুযায়ী ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার খোঁজ-খবর নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে৷ এখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপ (আত্মসাৎ) করা হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে ‘থোক বরাদ্দ’ থেকে আবারও শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরকালীন ভাতা চালুর কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী৷